কিশোরগঞ্জে কর্মকর্তাদের দেরিতে অফিসে আসার অভিযোগ, সেবা প্রত্যাশীদের ভোগান্তি

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৪:৪৭
 
ভিক্ষুকমুক্ত ও মাদকমুক্ত উপজেলা ঘোষণার অজুহাতকে পুঁজি করে সরকারি নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা করছেননা নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ। সরকারী সময় না মেনে তারা নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে অফিসে আসায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অফিসগুলোতে আসা সেবা প্রত্যাশী লোকজন।
 
সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগ সূত্রে গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলা প্রশাসনের অধীনস্থ ১৭ টি সরকারী দপ্তরে গিয়ে দেখা যায়, সরকারী অফিস গুলোতে সকাল ৯ টায় কর্মকর্তাদের আসার কথা থাকলেও  কোন কোন কর্মকর্তাই সকাল ১০টা  থেকে ১১টার  আগে অফিসে আসেনা। আবার সকাল ১০টার পরে অফিসে আসলেও চলে যান ২ টা থেকে ৩ টার আগে। এর মাঝখানে রয়েছে দুপুরের খাবার ও নামাজের বিরতি। ফলে সেবা প্রত্যাশীগণ অফিসে এসে অফিসারদের না পেয়ে ফিরে যান। বিশেষ করে রবিবার প্রথম কার্যদিবস হওয়ায় কর্মকর্তারা সচরাচর দেরি করে আসেন। আর বৃহস্পতিবার শেষদিন হওয়ায় দুপুরের পর অফিস কার্যত ফাঁকা হয়ে পড়ে।
 
রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৯টা ২০ মিনিটে অফিসে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মেহেদী হাসান। এ সময় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় অফিসার, নির্বাচন অফিসার, কৃষি কর্মকর্তা,মৎস্য কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন অফিসার , প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, ট্রেজারি অফিসার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ সকাল দশটা  পর্যন্ত কোন কর্মকর্তা তাদের দপ্তরে আসেননি।
 
এদিকে সকাল ১০টার আরো পরে গিয়ে উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসে দেখা যায় আনসার ভিডিপি অফিসে তালা ঝুলছে। জন স্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অফিসে গিয়ে দেখা যায় একই চিত্র।  এ সময়  উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে সেবা প্রত্যাশী  লোকজন এসে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।
 
আনসার ভিডিপি অফিসে আসা একজন সেবা প্রত্যাশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাবা আমি এই অফিসের অধীনে ইউনিয়ন আনসার কমান্ডার হিসাবে নিযুক্ত ছিলাম। বয়স বেড়ে যাওয়ায় কাজ ছেড়ে দিয়েছি। বর্তমানে আমি কয়দিন যাবৎ আনসার ভিডিপি কর্মকর্তার সাথে দেখা করতে আসছি কিন্তু তার দেখা পাইনা। অফিসে আপনার কি কাজ জানতে চাইলে তিনি বলেন, নীলফামারীতে আনসার ভিডিপির প্রশিক্ষণ হওয়ায় কথা সেখানে আমার ছেলের নাম দেওয়ার জন্য ৪ হাজার টাকা দিয়েছি। তাই প্রতিদিন আসি কিন্তু তার দেখা পাইনা।
 
উপজেলা ট্রেজারি অফিসের সামনে গিয়ে দেখা যায়, এক বৃদ্ধ মানুষ সেখানে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। আপনি এখানে কেন এসেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি প্রাইমারির শিক্ষক ছিলাম। বছর চারেক আগে অবসরগ্রহণ করেছি। অবসরজনিত কাজ আছে কিন্তু গত তিন দিন থেকে ঘুরে অফিসারের দেখা পাচ্ছিনা।
 
এ ব্যাপারে ট্রেজারি অফিসের অফিস সহকারী আব্দুল মালেকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, স্যার এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। স্যার এখানে সপ্তাহে দুইদিন বসেন। তাই একটু সমস্যা হয়।
 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারী কর্মকর্তাদের সরকারী কোয়ার্টারে থাকার নিয়ম কিন্তু অনেক কর্মকর্তা কোয়াটারে থাকেন না তাই ঠিক সময়ে অফিসে আসতে পারেননা।
 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মেহেদী হাসান বলেন, কিছু কিছু সরকারী দপ্তর উপজেলা প্রশাসনের অধীনে থাকলেও তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে জেলা কর্মকর্তারা। তবে আর কোন অফিসার যাতে দেরিতে অফিসে না আসে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ