পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়কে অনির্দিষ্টকালের সড়ক-অবরোধ

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৬:৫৭
 
আজ সকাল ৬টা থেকে বাংলাবান্ধা-পঞ্চগড় মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে শ্রমিকরা। পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়কের সিপাইপাড়া এলাকায় শ্রমিকরা মহাসড়কের ওপর শুয়ে বসে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে দেশী বিদেশী যানবাহনের মালামাল সমহারে (অর্ধেক করে ট্রাক) লোড আনলোড কর্মবন্টনের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কুলি শ্রমিক ইউনিয়নের (২৩০৫) শত শত শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে। 
 
বৈষম্য নিরসন করে দুটি কুলি শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে সমানভাগে কাজ ভাগ করে দেওয়ার দাবি করেছে ২৩০৫ এর শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। প্রতিদিন যেসব ট্রাক স্থলবন্দরে আসে সেসব ট্রাক দুই সংগঠনের মধ্যে ভাগ করে লোড আনলোড করার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকরা। অবরোধ চলাকালে স্থলবন্দরের মালামাল পরিবহণকারী ট্রাকসহ সকল প্রকার যানবাহন যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। এর ফলে শত শত ট্রাক ও বাস দুপাশে আটকে পড়ে। দুর্ভোগে পড়েছে বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশে যাতায়াতকারী পর্যটক, রোগী, ছাত্র ও ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ। 
 
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কুলি শ্রমিক ইউনিয়নের (২৩০৫) সভাপতি গোলাম রসুল সাধারণ সম্পাদক মঞ্জু আলী প্রধান জানান, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর চালু হওয়ার পর মালামাল লোড আনলোড করতে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কুলি শ্রমিক ইউনিয়ন নামে দুটি সংগঠন রেজিস্ট্রেশন করেন। কিন্তু বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কুলি শ্রমিক ইউনিয়ন (২৬৩৪) নামের শ্রমিক সংগঠনটি বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কুলি শ্রমিক ইউনিয়ন (২৩০৫) নামের শ্রমিক সংগঠনটির সদস্যদের কাজ করতে দিচ্ছে না। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কুলি শ্রমিক ইউনিয়ন (২৩০৫) আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। উপজেলা প্রশাসন এ নিয়ে দুটি শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে একাধিকবার বসেও কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি। কারো কথাই কর্ণপাত করছেন না বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কুলি শ্রমিক ইউনিয়ন (২৬৩৪)। বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য মহাসড়ক অবরোধ করে। 
IMG0
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে বর্তমানে ১৫৪ জন শ্রমিক কাজ করছে। এরমধ্যে ২৬৩৪ এর ১১৪ জন শ্রমিক এবং ২৩০৫ এর মাত্র ৪০ জন শ্রমিক। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কুলি শ্রমিক ইউনিয়ন (২৬৩৪) নামের শ্রমিক সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা ১১৪ জন এবং বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কুলি শ্রমিক ইউনিয়ন (২৩০৫) নামের শ্রমিক সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা ২৬০ জন। 
 
বাংলাবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান খুদরত ই খুদা মিলন জানান, ‘দুটি কুলি শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে সমহারে কাজ বণ্টনের দাবিতে কুলি শ্রমিকদের একটি সংগঠন অবরোধ করেছে। উভয় সংগঠনকে সমভাবে কাজ করার সুযোগ করে দিলেই এ সমস্যার সমাধান হবে’। 
 
ঘটনাস্থলে তেঁতুলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. আব্দুস ছবুর ও ভজনপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক অবরোধ তুলে নিতে কুলি শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের অনুরোধ করেছেন। কিন্তু তারা তা শুনছেন না। 
 
ইত্তেফাক/আনিসুর