বাংলাদেশে ৬০ শতাংশের অধিক মানুষ অসচেতনভাবে চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন করে। ফলে অধিকাংশ মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হয়ে যাচ্ছে বা রোগের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না। ফলে চিকিত্সা ক্ষেত্রে বা জনস্বাস্থ্যে বিশাল হুমকির সৃষ্টি হচ্ছে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল বুধবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক উদারাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) এর সাসাকাওয়া মিলনায়তনে এক সেমিনারে এসব তথ্য জানান বিশেষজ্ঞরা।
আইসিডিডিআরবি এবং যুক্তরাজ্যের গবেষণা সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহের (লাফবোরো ইউনিভার্সিটি, ডারহাম ইউনিভার্সিটি, ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটি) কর্তৃক পরিচালিত বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বিষয়ক গবেষণার ফলাফল প্রকাশের লক্ষ্যে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
বক্তারা বলেন, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসটেন্স বিশ্ববাসীর জন্য একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা। বৃহত্ পরিসরে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের ব্যবহার (বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক) অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সকে ত্বরান্বিত করছে। যখন কোনো অ্যান্টিবায়োটিক যা পূর্বে বিশেষ কোনো রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের বিরুদ্ধে কার্যকর ছিল, কিন্তু এখন তা আর কাজ করছে না, তখন তাকে বলা হচ্ছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্যে অত্যাবশ্যক কিন্তু অনেক ব্যাকটেরিয়াই এখন অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্যান্স হয়ে উঠছে।
বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার সম্পর্কিত গবেষণায় গবেষকরা দেখেছেন যে অসুস্থতার সময় মানুষ কীভাবে নিজেদের এবং তাদের গবাদি পশু-পাখির জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করছে। গবেষণায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ আচরণ উঠে এসেছে, যেমন মানুষ অ্যান্টিবায়োটিক কিনতে কোথায় যায়, কোন ধরনের অসুস্থতার জন্যে মানুষ অ্যান্টিবায়োটিক খোঁজে এবং অ্যান্টিবায়োটিক কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে তাদের ধারণা কী। অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ নিজেদের ইচ্ছায় বা ওষুধ বিক্রেতাদের পরামর্শে কেনা যাবে না। অবশ্যই একজন চিকিত্সকের পরামর্শে এ ধরনের ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। আরও উপস্থিত ছিলেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন। এ বিষয়ে সরকারের ভূমিকা ও এ পর্যন্ত সফল কর্মযজ্ঞের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন তারা।
এই গবেষণায় প্রশিক্ষিত ডাক্তার (এমবিবিএস) এবং পশুচিকিত্সক হতে শুরু করে ওষুধের দোকানদারসহ সর্বমোট ৪৬ জন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর (গ্রাম ও শহর মিলিয়ে) সাক্ষাত্কার নেওয়া হয়েছিল।
আইসিডিডিআরবির অ্যাডজাঙ্কট সায়েন্টিস্ট ও ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম বাংলাদেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্স বিষয়ক সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন। গবেষণার সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের লাফবোরো ইউনিভার্সিটির ড. এমিলি রউশাম। আইসিডিডিআরবির মো. রফি উদ্দিন গৃহস্থালী পর্যায়ে পরিবারের সদস্যসমূহ এবং তাদের গবাদি পশুর জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিষয়ক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। যুক্তরাজ্যের সাসে ইউনিভার্সিটির ড. পাপরিন নাহার অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালস সমূহের বিক্রয় বিষয়ে প্রশিক্ষিত এবং অপ্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা দানকারীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
