চট্টগ্রামে গণপরিবহন সেক্টরে ধর্মঘটের নামে ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য চলছে। পরিবহন মালিকদের মধ্যে এক পক্ষ ধর্মঘট ডাকলেও অপর একটি পক্ষ মানছেন না। এতে চলাচলরত গাড়িগুলো ২/৩ গুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে। সিটি বাস ও টেম্পুতে ওঠলেই ১০ টাকা হারে ভাড়া আদায় করছে। এ নিয়ে যাত্রীদের সাথে তর্কাতর্কি হচ্ছে। সূত্র জানায়, বৃহত্তর চট্টগ্রামে নামে-বেনামে পরিবহণ মালিক ও শ্রমিকদের প্রায় ৭০টি সংগঠন রয়েছে। এসব সংগঠনের নামে চলছে পরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্য।
গত রবিবার ভোর থেকে ৭টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত চট্টগ্রাম মেট্রো গণপরিবহন মালিক সংগ্রাম পরিষদের ডাকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডাকা হয়। এর ফলে নগরীতে গণপরিবহনের সংকট দেখা দেয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। কিন্তু নগরীতে সিটি সার্ভিস মালিক সমিতিভুক্ত পক্ষের সিটি বাস ও টেম্পু চলাচল করছে। চলাচলরত যানবাহনগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। কর্মজীবী মানুষ বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করছে। বাড়তি ভাড়া আদায় নিয়ে গাড়ি চালকদের সাথে যাত্রীদের তর্কাতর্কি হাতাহাতি পর্যায়েও গড়াচ্ছে।
পরিবহণ মালিক সমিতি সূত্র জানায়, নগরীতে বাস ও হিউম্যান হুলার রয়েছে প্রায় দুই হাজার। আর টেম্পু রয়েছে দুই হাজারের কিছু বেশি। এর বাইরে রয়েছে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা প্রায় ১২ হাজার। ধর্মঘটের কারণে বাস ও টেম্পু চলাচল অর্ধেক বন্ধ রয়েছে।
পুলিশের চাঁদাবাজি ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ ও বিআরটিএ’র দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণসহ ১১ দফা দাবিতে এবার ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। গতকাল সোমবারও দিনের পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত ছিল। জানা যায়, সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন মোবাইলে ধর্মঘট আহবানকারী পরিবহন মালিক সমিতির নেতাদের সাথে কথা বলেছেন। তিনি দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে ধর্মঘট স্থগিত রাখতে বলেছেন। এ প্রসঙ্গে ধর্মঘট আহবানকারী সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক বেলায়েত হোসেন বেলাল ইত্তেফাককে বলেন, ধর্মঘট নিয়ে মেয়রের সাথে কথা হয়েছে। তিনি আজ মঙ্গলবার আমাদের সাথে বসবেন। বৈঠকের পর ধর্মঘট নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
