লাউয়ে অল্প খরচে বেশি মুনাফা

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৪:৪৪
 
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কৃষক লাউ চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। বনে গেছেন লাখপতি। ফলে একের সাফল্যে অন্যরা উৎসাহিত হয়ে লাউ চাষ করছেন। এতে উপজেলায় বাড়ছে লাউয়ের চাষাবাদ। অল্প খরচে বেশি মুনাফা হওয়ায় লাউ চাষ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ সংশ্লিষ্ট কৃষি অধিদফতরের।
 
উপজেলার অন্যতম উচাপাড়া গ্রামের চাঁন মিয়া লাউ চাষ করে নিজের অভাব ঘুচিয়েছেন। পাশাপাশি অন্যদের লাউ চাষে উৎসাহ দিয়ে আসছেন। কৃষক চাঁন মিয়া প্রতি বছরের মতো এবারো কৃষি অধিদফতরের পরামর্শে দেড় বিঘা জমিতে লাউয়ের চারা রোপণ করেন। নিজের একমাত্র সম্বল দেড় বিঘা জমিতে ডায়না জাতের লাউয়ের চারা রোপণ করেছেন। তার দেড় বিঘা জমিতে লাউ ধরা পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে তিনি এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার টাকার লাউ বিক্রয় করেছেন।
 
স্থানীয় কৃষকরা জানান, লাউ চাষে গোবর, ছাই, কচুরিপানা আর পানিই প্রধান। এইসবের বাইরে রাসায়নিক সারের খুব একটা ভূমিকা নেই বললেই চলে। তাই এক বিঘা জমিতে লাউ চাষে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার বেশি খরচ হয় না। অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাউ চাষে শ্রমও তুলনামূলক কম দিতে হয়। শীতকালীন সবজি হিসেবে ভোক্তাদের কাছে লাউয়ের প্রচুর চাহিদা এবং বাজার দর ভালো থাকায় প্রতি বিঘা জমির লাউ এক লাখ ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা বিক্রি করা যায়। এ ছাড়া লাউয়ের ডগা বিক্রি করে আসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা।
 
উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, লাউ সাধারণত শীতকালীন সবজি হলেও, বর্তমানে শীতের আগে আগাম সবজি হিসেবে লাউ চাষের কদর বেড়েছে। বর্ষার শেষ এবং শীতের শুরুতে কৃষকরা এ লাউ চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছে।
 
উপজেলা কৃষি অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অবিনাশ চন্দ্র সরকার জানান, এলাকার কৃষকরা আগাম লাউ চাষ করে বেশ লাভবান হওয়ার পাশাপাশি সবজির ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
 
উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ জানান, সেক্সফেরোমেন ফাঁদ লাউ, বেগুন, করলা ক্ষেতে আমাদের কৃষকরা ব্যবহার করছেন। এ সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে আমাদের উপজেলার মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা।ৎ
 
ইত্তেফাক/জামান