গৌরীপুর উপজেলা যুবলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের দিন ইউএনওর বাসাসহ পাঁচস্থানে পেট্রোলবোমা হামলার ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত। যুবলীগের সম্মেলনকে পণ্ড করার জন্য একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।
বোমা হামলা মামলায় গ্রেফতারকৃত এক ছাত্রলীগ নেতাসহ তিনজন জিজ্ঞাসাবাদে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) মঙ্গলবার এরকম তথ্য দিয়েছেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি আশিকুর রহমান বলেন, গ্রেফতারকৃত তিনজন জিজ্ঞাসাবাদে বোমা বিস্ফোরণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে কার নির্দেশে তারা এ কাজ করেছেন তদন্তের স্বার্থে সেটি এখন বলা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, গ্রেফতারকৃত তিনজনের মধ্যে দুজন ছাত্রলীগের কর্মী। দোষী প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৪ বছর পর বৃহস্পতিবার উপজেলা যুবলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ভোররাতে বঙ্গবন্ধু চত্বরে সম্মেলন মঞ্চে আগুন ও ইউএনওর সরকারি বাসাসহ পাঁচস্থানে পেট্রোলবোমা হামলার ঘটনায় যুবলীগের সম্মেলন স্থগিত হয়ে যায়। পরে সম্মেলনের পক্ষে যুবলীগ কর্মীরা শহরে বিক্ষোভ করে সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিনের কুশপুতুল পোড়ায়।
এদিকে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সানাউল হক ও তার সমর্থকরা সম্মেলন পণ্ড করার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আহমেদকে দায়ী করে শুক্রবার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। তাদের দাবি সংসদ সদস্য তার ছেলে তানজীর আহমেদ রাজীবকে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক করার জন্য কেন্দ্রীয় যুবলীগের কাছে লিখিত অনুরোধ করেছিলেন। নাজিম উদ্দিনের এই ইচ্ছা পূরণ না হওয়ায় তার সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে সম্মেলন পণ্ড করে দেন।
অপরদিকে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হাসান আজাদ লিটন ও তার সমর্থকরা শনিবার ময়মনসিংহ শহরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে জানান, সম্মেলন পণ্ড ও বোমাবাজির ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিনের কোনো সম্পৃক্তা নেই। তিনি সম্মেলনের পক্ষে ছিলেন। একটি পক্ষ তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে।
নাজিম উদ্দিন আহমেদ জানান, তিনি সম্মেলনের পক্ষে ছিলেন। সম্মেলন হলে নতুন নেতৃত্ব বেরিয়ে আসত। তিনি সম্মেলন বন্ধ করেছেন এমন অভিযোগ সত্য নয়।
এদিকে পেট্রোল বোমা হামলা, নাজিম উদ্দিনের ছবি ভাঙচুর ও তার কুশপুতুল পুড়ানোর ঘটনায় গৌরীপুর থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।
বোমা হামলার ঘটনায় আশরাফুল আলম (২৫), মো. আলম (২০) ও রনি (২০) নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরমধ্যে আশরাফুল আলম ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বাকি দুইজন আওয়ামী লীগের সমর্থক।
ইত্তেফাক/আরকেজি
