গোয়ালন্দে পাকা সড়কে বাঁশের সাঁকো

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ১২:৩২
 
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের প্রধান পাকা সড়কটির উপর নির্মিত একটি বাঁশের সাঁকোই ওই অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। পরপর দুইবার বন্যায় সড়কটির ভেঙে যাওয়া স্থানে পায়ে চলাচলের জন্য একটি বাঁশের সাঁকো দেয়া হলেও মালামাল পরিবহন ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
 
জানা যায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক ডাইভিশন সড়ক নামে সৃষ্ট হওয়া সড়কটি দেবগ্রাম ইউনিয়নের তেনাপচা হয়ে কাটাখালী বাজার পর্যন্ত ইউনিয়নের প্রধান সড়কটির পূর্ব তেনাপচা এলাকায় ২০১৫ সালের বন্যায় প্রবল স্রোতে প্রায় ১শ' ফুট এলাকা ভেঙে যায়। তৎকালীন সময়ে কাবিটা প্রকল্পের প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ভাঙা স্থানটি মেরামত করা হয়। কিন্তু গত বন্যায় ওই স্থানটি আবারো ভেঙে যায়। দ্বিতীয় বারের ভাঙনে সড়কটির সাথে সংযোগকারী আরেকটি ইটের রাস্তা ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি বাড়ি ভাঙনের শিকার হয়। বন্যা ভাঙনের পর হতে কিছুদিন খেয়া পারাপারের মাধ্যমে লোকজন চলাচল করার পর ইউপি চেয়ারম্যান আতর আলী সরদার নিজ উদ্যোগে লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে সেখানে একটি বাঁশের মাচান সাঁকো তৈরি করে দেন।
 
সরেজমিন দেখা যায়, সাঁকোটির উপর দিয়ে লোকজন পায়ে হেঁটে পারাপার হচ্ছেন। এ ছাড়া অটোরিকশা, রিকশা, ভ্যান, মোটর সাইকেল ও বাই সাইকেলের মতো হালকা যানবাহনও ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। তবে সাঁকোটির স্থায়িত্ব বিবেচনায় যাত্রীবাহী অটোরিকশা ও ভারী মালবোঝাই ভ্যান চলাচল নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান। ফলে সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী ও কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। এলাকার লোকজন জানান, এই সড়কটির দিয়ে অত্র ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ চলাচলের জন্য নির্ভরশীল।
 
স্থানীয় বাসিন্দা আ. খালেক, শামসুল হক দফাদার, আরিফুর রহমান, মমিন শেখসহ অনেকেই জানান- সড়কটি দুই পাশে সরকারী, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এলাকাটি কৃষি প্রধান হিসেবে প্রচুর পরিমাণে কৃষি পণ্য উৎপাদন হয়। আশেপাশে এলাকার সবাই কৃষি নির্ভরশীল। স্থানীয় কাটাখালী বাজার ও আতর চেয়ারম্যানের বাজার হতে বেপারীরা কাঁচামাল কিনে যথা স্থানে পৌঁছাতে বিপাকে পড়ছেন। বর্তমানে প্রতিদিন শত শত মণ শীতকালীন সবজি এখান থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় রফতানি হচ্ছে। সড়কটির মাঝামাঝি স্থানে ভেঙে যাওয়ায় প্রায় ৭/৮ কিলোমিটার পথ ঘুরে বেড়ি বাঁধ দিয়ে মহাসড়কে উঠতে হয়। এতে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
 
ওয়ার্ড সদস্য মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষ ছাড়াও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচলে অনেক ভোগান্তি হচ্ছে। দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতর আলী সরদার জানান, প্রথম বার ভাঙনের পর মাটি ফেলে সড়কটি মেরামত করা হলেও তা স্থায়ী হয়নি। পদ্মা নদীর পানি বাড়লেই এই নিচু এলাকা দিয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়। এ ব্যাপারে আমরা গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসনের নিকট আবেদন করেছি। ভাঙা স্থানটি মাটি দিয়ে সংস্কার না করে ওখানে একটি ব্রিজ করা একান্ত প্রয়োজন।
 
ইত্তেফাক/জামান