তালায় শিশু অপহরণ মামলা

এক যুগ জেল খাটার পর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বরকতী ও রাশিদার মুক্তিলাভ

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ০২:০৬

বরকতী বিবি। বাবার নাম কালা হাফেজা। বয়স আনুমানিক ৪৫। ঠিকানা অজ্ঞাত। রাশিদা। বাবার নাম আলিম। বয়স আনুমানিক ৫৫। ঠিকানা অজ্ঞাত। এসব হয়তো তাদের সঠিক নাম নয়। যে কোনোভাবে পুলিশের খাতায় বা বিচারের নথিতে লেখা পড়েছে এসব নাম।

রবিবার দুপুরে তারা সাতক্ষীরা জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাদের কাছে ছিল একটি করে বস্তা। বস্তার ভিতরে রয়েছে কতক আসামির রেখে যাওয়া ভালবাসার নতুন বা পুরাতন বস্ত্র। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে তারা দুইজনেই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। দীর্ঘকাল কারাভোগ করার পর বাইরে আসতে পেরে তারা যার পর নেই খুশি। চোখে-মুখে স্বস্তির ছাপ। এরপর সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাদেরকে বসবাসের ঠিকানা করে দেওয়ার খবরে তারা ফিরে পেয়েছেন নতুন জীবন।

জানা গেছে, ২০০৫ সালের ৩১ মে সাতক্ষীরার তালা থানার একটি শিশু অপহরণ মামলায় পুলিশ বরকতী ও রাশিদাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়। এ সময় তারা তাদের নাম ও ঠিকানা সঠিক করে বলতে পারেনি। ২০০৭ সালের ২৮ জুন সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তাদের প্রত্যেককে ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। বিচারক ওই দুই নারীর হাজতবাসের সময়কাল সাজার সঙ্গে যুক্ত করেননি। এরপর থেকে তারা কয়েদি হিসেবে সাতক্ষীরা কারাগারে ছিলেন। আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসে তাদেরকে মুক্তি দেওয়া হলো।

কালিগঞ্জের চম্পাফুল ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এনামুল হোসেন ছোট জানান, তার ইউনিয়নের দুইজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী একটি মামলায় দীর্ঘদিন জেলখানায় রয়েছে বলে এক মাস আগে তাকে অবহিত করেন জেলার তুহিন কান্তি খান। তারা নিজেদের নাম-ঠিকানা বলতে পারেন না। তাই তাদেরকে একবার দেখতে আসার জন্য তাকে বলা হয়। দুইদিন পর তিনি তার ইউনিয়নের ট্যাক্স আদায়কারী অম্মত আলী সরদারকে নিয়ে কারা ফটকে আসেন। তাদেরকে তারা চিনতে পারেননি; কিন্তু এ দুইজনকে কোনো উপায়ে পুনর্বাসন করা যায় কিনা এ জন্য জেলর তার কাছে সহযোগিতা চান। কারা সুপারিনটেন্ডেন্ট আবু জাহেদ ও জেলার তুহিন কান্তি খান জানান, তারা চলে গেলে এদের মুক্তি পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। মুক্তি পেলেও তাদের ঠিকানা মিলবে না।

ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন ছোট বলেন, কারা কর্তৃপক্ষের কথা শুনে তিনি ওই দুই নারীকে পুনর্বাসনের দায়িত্ব নেন। এক পর্যায়ে রবিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনিসহ সংরক্ষিত নারী সদস্য সেলিনা খাতুন, ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলাম, বাবুল আক্তার, কবীর হোসেন, ট্যাক্স আদায়কারী অম্মত আলী সরদার, দৈনিক প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার কল্যাণ ব্যানার্জী, দীপ্ত টেলিভিশনের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি রঘুনাথ খাঁ, দৈনিক সাতনদীর কালিগঞ্জ প্রতিনিধি হাফিজুর রহমানকে নিয়ে সাতক্ষীরা কারা ফটকে আসেন। সেখানে তিনি যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের থাকার জন্য বরেয়ার গুচ্ছগ্রামের দুইটি ঘরসহ স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও কমপক্ষে এক বছরের খাওয়া-পড়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে সেখানে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেন।

ইত্তেফাক/নূহু