আমন ধানের মাঠগুলো এখন মাছের ঘের

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ১১:০৯
 
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটাসহ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে আমন ধানের মাঠগুলো এখন মাছের ঘেরে পরিণত হয়েছে। স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে বিকল্প পথ হিসেবে মাছ চাষ বেছে নিয়েছে এখানকার জমির মালিকরা। তারা একত্রিত হয়ে শুরু করেছেন গণঘের।
 
জানা গেছে, বিগত কয়েক বছর যাবত কপোতাক্ষ নদ ভরাটের কারণে উপজেলার গোয়ালপোতা, মিঠাবাড়ি, বড়বিলা, শাকদাহ, আসামনগর, বাইগুনি, মির্জাপুর, তৈলকুপি, চোমরখালি, খলিষখালী, দলুয়া, ধানদিয়া, সেনেরগাতী এলাকার বিল ও নিচু এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এছাড়া বিলের মাঝ বরাবর যে সকল খাল আছে তা দিয়েও পানি সরে না। তাই বর্ষা মৌসুমে বিলগুলো পানিতে প্লাবিত থাকে। যে কারণে নিরুপায় হয়ে জমির মালিকগণ আমন ধানের পরিবর্তে মৎস্য ঘের করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
 
বাইগুনি গ্রামের মহিনুর রহমান জানান, ২০০০ সালের ভয়াবহ বন্যার পরে বিলে আর আমন ধান হয়নি। এরপর থেকে প্রতিবছর বর্ষার মৌসুমে মাঠগুলো পানিতে নিমজ্জিত থাকে। যে সময় আমন ধান রোপণে ব্যস্ত থাকত চাষিরা সে সময় তাকিয়ে থাকতে হতো মাঠের দিকে, কখন পানি সরে যাবে। কিন্তু পানি সরা দূরের কথা, মাঠ পানিতে নিমজ্জিত থাকত। এ কারণে আমন ধানের পরিবর্তে মাছ চাষের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি মনে করেন, আমন ধান চাষের চেয়ে মাছ চাষ অধিক লাভজনক। মাছ চাষের পাশাপাশি ঘেরের ভেড়িতে শাক-সবজি চাষ করেও বাড়তি অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।
 
খলিষখালী গ্রামের ঘের মালিক নুরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে মাছ চাষ খুব লাভজনক। বর্ষার শুরু থেকে মাঠে পানি জমে থাকার কারণে ধান চাষ করা অসম্ভব হয়ে ওঠে। তাই জমিতে ভেড়িবাঁধ দিয়ে সহজেই মাছের চাষ করা যায়। মাছের বাজার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে মাছের বাজার একটু নিম্নমুখী হলেও তেমন অসুবিধা হচ্ছে না। তবে তিনি মাছ চাষের প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানান।
 
ইত্তেফাক/জামান