যেসব স্থান হানাদার মুক্ত হয় আজ

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ১২:২৫
আজ ৮ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থান পাকিস্তানি হানাদারদের কবল থেকে মুক্ত হয়। ইত্তেফাকের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
 
মৌলভীবাজার
 
১৯৭১ সালের আজকের দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা মরণপণ লড়াই করে হানাদার বাহিনীকে মৌলভীবাজার থেকে বিতাড়িত করে শত্রুমুক্ত করেছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের বহুমুখী লড়াই ও ভারতের সীমান্ত থেকে মুক্তি বাহিনী ক্রমশ ক্যাম্প অভিমুখে এগিয়ে আসার খবরে পাকিস্তানি বাহিনী ভীত হয়ে পড়ে। অবস্থা বেগতিক দেখে ৬ ডিসেম্বর ভোরে মনুব্রীজসহ  বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করে তারা পালিয়ে যায় এবং মুক্ত হয় মৌলভীবাজার শহর। উড়ানো হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।
 
রামগড় (খাগড়াছড়ি)
 
মুক্তিযুদ্ধের আজকের দিনে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাস্ত করে দীর্ঘ ৭ মাস ৬ দিন পর রামগড়ের মাটিতে উড়ানো হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা। শত্রুমুক্ত হয় বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ এ ঘাঁটি। মেজর জিয়া ও ক্যাপ্টেন রফিকের নেতৃত্বে রামগড় হাই স্কুল মাঠে মুক্তিফৌজের সর্বপ্রথম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলা হয়। রাঙ্গামাটি পতনের পর ১৩ এপ্রিল পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা সদর সেখান থেকে স্থানান্তরিত করে নিয়ে আসা হয় রামগড়ে।
 
২ মে ভোর বেলায় ভারী কামান ও শক্তিশালী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চারিদিক থেকে রামগড় ঘাঁটির উপর হামলা চালায় পাকিস্তানি বাহিনী। রামগড় পতন হলে সেক্টর এক এর হেডকোয়ার্টার পুনঃস্থাপন করা হয় সীমান্তের ওপারের ভারতের ত্রিপুরার সাবরুম মহকুমার হরিনায়।
 
রামগড়ের শত্রুঘাঁটির উপর মুক্তিযোদ্ধারা প্রায়ই গেরিলা হামলা চালাতে থাকে। ৭ ডিসেম্বর সকালে ভারতীয় বিমান বাহিনীর তিনটি জেট বিমান রামগড়ে দখলদার বাহিনীর অবস্থানগুলোর উপর বোমা বর্ষণ করে।
 
ভীতসন্ত্রস্ত পাকবাহিনীর সৈন্যরা ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকে পিছু হটতে শুরু করে। ৮ ডিসেম্বর বিকেলের আগেই  পাকিস্তানি সৈন্যরা সবাই রামগড়ের মাটি ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যায়। বিকালে ভারতের সাবরুমের আশ্রয় শিবির থেকে বিজয় উল্লাসে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দেশের মাটিতে ছুটে আসে রামগড়ের মানুষ। রামগড় বাজারে উড়ানো হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা।
 
শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
 
আজকের দিনে শত্রু মুক্ত হয়েছিল হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ। ৮ ডিসেম্বর সিলেটের সর্বত্র যুদ্ধে হেরে পাকিস্তানি বাহিনী সড়ক ও রেলপথে শায়েস্তাগঞ্জ হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে পালাতে থাকে। একই সাথে শায়েস্তাগঞ্জ থেকেও পালিয়ে যায় দখলদার পাকিস্তানিরা। দীর্ঘ নয় মাস পর এলাকার সর্বস্তরের মানুষ বিজয় পতাকা হাতে বেরিয়ে পড়ে রাস্তায়। ‘জয়বাংলা’ শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে শায়েস্তাগঞ্জ শহর।
 
ইত্তেফাক/এমআর