বগুড়ার ধুনট উপজেলায় মামার বাড়ি থেকে রোমন মিয়া (২০) নামে নব বিবাহিত ভাগ্নের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে।
শনিবার সকাল ১১টার দিকে ধুনট থানায় থেকে রোমনের লাশ ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত রোমন মিয়া উপজেলার কালেরপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কালেরপাড়া গ্রামের আল আমিনের স্ত্রী মারুফা খাতুনের সাথে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন রোমন মিয়া। এক পর্যায়ে প্রায় ২০ দিন আগে মারুফা খাতুন প্রেমের টানে রোমনের হাত ধরে স্বামীর বাড়ি থেকে চলে যান। পরবর্তীতে মারুফা খাতুন ও রোমন মিয়া বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
কিন্তু উভয় পক্ষের অভিভাবকরা রোমন ও মারুফার বিয়ে মেনে নেয় না। ফলে নববধূকে নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে গোসাইবাড়ি মাস্টারপাড়া গ্রামে মামা কবিরাজ লাভলু মিয়ার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন রোমন। এ অবস্থায় শুক্রবার দুপুরের দিকে একটি ঘরের ভেতর তীরের সাথে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় রোমনের ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পায় মামার বাড়ির লোকজন। তবে ঘটনার সময় নববধূ মারুফা খাতুন পারিবারিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ শুক্রবার রাতে ঘটনাস্থল থেকে রোমনের লাশ উদ্ধার করেন।
বাড়ির মালিক লাভলু মিয়া বলেন, 'বিয়ের পর থেকেই নব দম্পতি সুখ-শান্তিতেই ছিল। তবে কি কারণে আমার ভাগ্নে গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যু বরণ করেছে তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।'
ধুনট থানার উপপরিদর্শক মাইনুদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে রোমনের মৃত্যুর কারণের কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই ময়না তদন্তের জন্য রোমনের মৃতদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/জামান
