ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভারে নুয়ে পড়েছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। ভিক্ষুকমুক্ত ও মাদকমুক্ত এ উপজেলার অধিকাংশ গুরুত্বপুর্ণ সরকারি দফতরের কার্যক্রম চলছে ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে। ফলে ওইসব দপ্তরে সেবা নিতে আসা লোকজন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের অধীনে যেসব দপ্তর রয়েছে তার মধ্যে গুরুত্বপুর্ণ দপ্তরসমুহে র্দীঘদিন থেকে কর্মকর্তা না থাকায় ভারপ্রাপ্ত ও অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে চলছে ওই সব দপ্তরের সরকারি কার্যক্রম। ফলে সেবাপ্রত্যাশী লোকজন দিনের দিনের পর দিন ধর্না দিয়েও কাঙ্খিত সেবা না পেয়ে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়ে জরুরী কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
জানা গেছে, গত ৭/৬/২০১২ সালে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বদলী হওয়ার পর থেকে ওই অফিসে ভারপ্রাপ্ত হিসাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন নীলফামারী যুব উন্নয়ন অফিসের একজন সহকারী পরিচালক। র্দীঘ ৬ বছরেও সেখানে কোন কর্মকর্তা যোগদান না করায় অফিসের যে কোন কাজের জন্য ফাইলে স্বাক্ষর লাগলে নীলফামারী গিয়ে তার স্বাক্ষর আনতে হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অফিসের এক কর্মচারী বলেন, আগে অফিসটি জাঁকজমক ছিল। স্যার আসেন না। তাই অন্যরাও ঠিকমতো অফিস করেন না। লোকজন কাজের জন্য এসে বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে চলে যায়।
জানা গেছে, ৬/১২/২০১৫ সালে ভারপ্রাপ্ত হিসাবে উপজেলা আনছার ভিডিপি অফিসের দায়িত্ব পান কল্পনা রানী দাস। এর আগে তিনি প্রশিক্ষিকা হিসাবে কর্মরত ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত আনছার ভিডিপি কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি অফিসটি দুনীর্তির আখড়া বানিয়ে ফেলেন। গত দুর্গা পুজোয় আনছার নিয়োগে টাকা নেওয়ার অভিযোগে আনছার সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও তিনি রয়েছেন বহাল তবিয়তে। এছাড়াও নীলফামারীতে আনছার প্রশিক্ষনে নাম দেওয়ার নামে তিনি প্রত্যেকের কাছ থেকে চার হাজার করে টাকা আদায় করেছেন।
এছাড়াও উপজেলার জনগুরুত্বপুর্ণ অফিসগুলোর মধ্যে ট্রেজারী অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন জাহেদ হোসেন। তিনি সপ্তাহে দুই দিন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। নুরন্নাহার শাহাজাদী তিনি সপ্তাহে কিংবা মাসে একদিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনিমুন আক্তার সপ্তাহে দুই দিন। পরিসখ্যান অফিস ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসটিও ভারপ্রাপ্তদের ভারে এখন ভারাক্রান্ত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মেহেদী হাসান বলেন, কর্মকতাদের বদলী বা যোগদানের বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের ব্যাপার।
ইত্তেফাক/নূহু
