টানা বর্ষণে বোরহানউদ্দিনে ৮৮৬ হেক্টর রবিশস্য পানির নিচে

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৭, ১০:৩০
 
টানা দুইদিনের বৃষ্টিতে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ৮৮৬ হেক্টর জমির রবিশস্য পানিতে ডুবে গেছে। এনজিও কিংবা ধার দেনা করে ঋণ নিয়ে যেসব চাষীরা আমন উত্পাদন করছে তারাও রয়েছে শঙ্কায়। এসব ফসলের মধ্যে মশুর ডাল, খেসারি ডাল, আলু আর সরিষা আর সবজির ক্ষতিই বেশি।
 
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি বছরে বোরহানউদ্দিন উপজেলার খেসারী ডাল আবাদ হয়েছে ৬২০ হেক্টর, মশুর ডাল ২৯০ হেক্টর, সরিষা ৫১০ হেক্টর, আর গোল আলু ৬০ হেক্টর। যদিও গোল আলুর আবাদ এখনও শেষ হয়নি। গত বছরে আলুর আবাদ ছিল ৪২০ হেক্টর। ২দিনের ক্রমাগত বর্ষার পানিতে নিমজ্জিত ফসলের মধে খেসারী ডাল রয়েছে ৩৭২ হেক্টর, মশুর ডাল ১০২ হেক্টর সরিসা ২৫৫ হেক্টর, গোল আলু ৩৯ হেক্টর, ফেলন ডাল ৭০ হেক্টর আর শাক সবজি রয়েছে ৩০ হেক্টর জমির।
 
শিগগিরই সূর্যের আলোর দেখা না মিললে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান আরো বাড়তে পারে এমন ধারণা কৃষি বিভাগের। এ সব কারণে দিশেহারা হয়ে পড়ছে কৃষকরা। এনজিও সংস্থার ঋণ কিংবা স্বজনদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে আশার আলো নিয়ে ফসল আবাদ করছে দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা। হঠাত্ প্রকৃতির বৈরী আচরণ তাদের আশার স্বপ্ন লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে।
 
সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা কৃষি অফিসার ওমর ফারুকের সাথে আলোচনায় এ তথ্য জানা যায়। তিনি আরো জানান, আবহাওয়ার পরিস্থিতি শিগগিরই উন্নত না হলে নাবি জাতের যে সমস্ত ধান মাটিয়ে পড়ে গিয়েছে ওই সব ক্ষেত্রে ক্ষতির মাত্রা বাড়বে।
 
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় আবাদকৃত বিলজুড়ে গোল আলু, খেসারীর ক্ষেত পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে। এ সময় উপজেলার বড় মানিকা ইউনিয়নের আলু চাষী এছহাক ও রেশু মিয়া, কুতুবা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ছলেমান, তৈয়ব, বাবুল জানান, গোল আলুর বীজ লাগানোর সময় বেশী করে রাসায়নিক সার দেওয়া হয়। বর্তমানে বৃষ্টির পানি আর সার মিশে যাওয়ার কারণে আাালুতে পচন লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। খেসারীর ক্ষেতে অনেকে আইল কেটে পানি নিস্কাশনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের আলাউদ্দিন জানায়, তার ৫ গন্ডা জমির খেসারী পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ওমর ফারুক জানান, প্রতিটি ব্লকে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা তদারকি করছে। কৃষকদের সমস্যা ও ডুবে যাওয়া ফসলের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য তারা পরামর্শ প্রদান করছেন।
 
ইত্তেফাক/এএম।