রাজশাহীতে ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবার পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এদিকে সভাপতিসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা এবং অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আব্দুল জব্বার মাহমুদ ওরফে জিহাদীর (৫৫) মাদ্রাসায় আসার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নগরীর ছোটবনগ্রাম এলাকার জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসার সামনে থেকে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ গিয়ে শেষ হয়।
মাদ্রাসা শিক্ষক আহসান জানান, অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আব্দুল জব্বার মাহমুদ ওরফে জিহাদীর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ছেলের পরিবার মামলা করে। ওই মামলায় তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তিনি জামিনে বেরিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি, শিক্ষকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে পাল্টা মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরো বলেন, অভিযুক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার বিভিন্ন অনুদানের টাকা আত্মসাত ছাড়াও মাদ্রসার টাকায় কেনা জমি নিজের নামে দলিল করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ছাত্রদের বলাৎকারসহ বিভিন্ন খাতের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মাদ্রাসার একজন শিক্ষক বলেন, অনেক ছাত্রের সঙ্গে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এধরনের আচরণ করেছেন। তারা লজ্জায় বিষয়টি প্রকাশ করে নি। সম্প্রতি বিষয়টি তার স্ত্রী জানার পর প্রতিবাদ করেন। তিনি স্ত্রীকেও নির্যাতন করেন বলে জানা যায়। পরে তারা অধ্যক্ষের স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করেন বলেও জানান ওই শিক্ষক।
উল্লেখ, গত ২৪ অক্টোবর ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ১৪ বছরের এক ছাত্র থানায় গিয়ে বলাৎকারের অভিযোগ করেন। ওই ছাত্রের বাবা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল জব্বার মাহমুদ ওরফে জিহাদীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়।
ইত্তেফাক/অারকেজি
