বেতাগীতে পাবলিক লাইব্রেরিটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোনো মুহূর্তে এটি ধসে পড়তে পারে। বেহাল দশায় বই পড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয়রা। ১৯৭৯ সালের গোড়ার দিকে মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রতিশ্রুত উপজেলা সদরের বেতাগী সরকারি কলেজ সংলগ্ন ক্যাম্পাসে অডিটরিয়াম-কাম পাবলিক লাইব্রেরি নির্মাণ করা হয়।
জানা গেছে, খুলনা বিভাগ উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পের আওতায় জেলা পরিষদ এটি নির্মাণ করে। তত্কালীন জেলা পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক আনোয়ারুজ্জমান এর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন। এসময় পটুয়াখালী জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে বেতাগী কলেজের কতিপয় শিক্ষক তাদের আবাসিক বাসস্থান হিসেবে এটি ব্যবহার করে আসলেও সংস্কারের অভাবে দিন দিন ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পড়ে। বর্তমানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে জোড়াতালি দিয়ে শিক্ষকরা একটি কক্ষ ব্যবহার করছেন।
লাইব্রেরি নির্মাণের দুই যুগ পর ১৯৯২ সালের দিকে তত্কালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহাজাহান মিয়ার আমলে তার সহযোগিতায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধীজন, শিক্ষক, সাংবাদিক সমন্বয়ে একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। তাদের উদ্যোগে ওই সময় ভবনের একটি কক্ষ সংস্কার করে লাইব্রেরির কার্যক্রম চালু হয়। সার্বক্ষণিক পরিচালনার জন্য সাচিবিক দায়িত্ব দেওয়া হয় বেতাগী কেজি স্কুলের তত্কালীন অধ্যক্ষ দিপালী রানিকে। এরই ধারাবাহিকতায় কয়েক বছর প্রতিষ্ঠানটি চলে কিন্তু ২০০৮ সালে তত্কালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হোসেন আলী খন্দকার এ উপজেলা থেকে বদলি হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ে। তত্কালীন পাবলিক লাইব্রেরি পরিচালনা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম সিদ্দিকী জানান, দুঃখজনক হলেও সত্য, ভবনের বেহালদশা ও আর্থিক সংকটের কারণে লাইব্রেরির কার্যক্রম বেশিদিন চালু রাখা সম্ভব হয়নি। বরগুনা জেলা পরিষদের সদস্য ও বেতাগী পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, লাইব্রেরি ভবনটির অবস্থা অনেকদিন ধরেই নাজুক। বর্তমানে সংস্কার উপযোগী আছে কিনা আমি জানি না। সরেজমিনে দেখে আগামী জেলা পরিষদের সভায় এ বিষয়টি উত্থাপন করবো।
ইত্তেফাক/নূহু
