জেলার ভৈরবে মেঘনার পলি ভরা জমির উর্বর মাটিতে এবার উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের বারি-১৪ ও বারি-১৫ সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। স্বল্প খরচে অল্প সময়ে উত্পাদন বেশি হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে এ সরিষার আবাদ। বর্তমানে সরিষা ক্ষেতগুলো হলুদ আর সাদা ফুলে ভরে উঠেছে। এ সুযোগে ফুল থেকে মধু আহরণে ব্যস্ত মৌমাছির দল।
কৃষি বিভাগের পরামর্শে কম খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় কৃষকরা সরিষা আবাদে ঝুঁকে পড়েছেন। ফলে এ বছর উপজেলার তিন হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের সরিষার আবাদ করা হয়েছে। ক্ষেতে ক্ষতিকর পোকা আক্রমণ না করায় দ্রুত বেড়ে উঠছে সরিষার চারা। কয়েকদিন পরেই শুরু হবে সরিষা সংগ্রহ। আমন ও ইরি মৌসুমের মাঝে অবশিষ্ট যে সময় থাকে, সে সময়ে কৃষকেরা জমি ফেলে না রেখে সরিষা আবাদের দিকে বেশি ঝুঁকছে। এছাড়াও কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সরিষা আবাদ করতে কৃষকদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। তাছাড়া জমিতে সরিষার আবাদের ফলে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। ফলে পরবর্তীতে ইরি-বোরো চাষাবাদের সময় সার ব্যবহারের খরচ কমে আসে।
কৃষকরা জানায়, অন্যান্য ফসলের তুলনায় উচ্চ ফলনশীল সরিষা বারি-১৪ ও বারি-১৫ জাতের আবাদ অধিক লাভজনক। তাছাড়া এ সরিয়া উত্পাদনে সময় কম লাগার ফলে বছরে একই জমিতে অনায়াসে তিনটি ফসল চাষ করতে পারেন তারা। ফলে গেল বছরের তুলনায় এবার দ্বিগুণ পরিমাণের জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা মনে করেন, যদি বাজারে সরিষার ন্যায্য দাম পাওয়া যায়, তাহলে আগামীতে হাইব্রিড জাতের সরিষার আবাদ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।
কৃষক মানিক মিয়া বলেন, আমাদের এই জমিগুলো অন্যান্য জমির চেয়ে উন্নতমানের। এই জমিতে সরিষা ফলন ভালো হয়। এক সময় আমরা পৌষ মাসে অন্য আর কোনো ফসল করতাম না। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ আর সহযোগিতায় চার-পাঁচ বছর ধরে আমরা সরিষা আবাদ করছি।
ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন বলেন, ভৈরবে কৃষকরা কয়েক বছর আগেও সরিষা চাষে আগ্রহী ছিল না। কিন্তু কৃষি বিভাগের উত্সাহ-সহযোগিতায় কৃষকরা সরিষা চাষে এগিয়ে আসেন। পরবর্তীতে অল্প সময় অল্প খরচ আর স্বল্প শ্রমে বেশি মুনাফা পাওয়ায় প্রতি বছরই এখানে সরিষার আবাদ বাড়ছে। এবার এই উপজেলায় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তিন হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
