আজ সিরাজগঞ্জ মুক্ত দিবস

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ১০:০৮
 
আজ ১৪ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ মুক্ত দিবস। ৯ ডিসেম্বর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের সমবেত করে সিরাজগঞ্জ মুক্ত করার জন্য মুক্তি বাহিনী শপথ গ্রহণ করেন। মুক্তি বাহিনীর নিজস্ব রণকৌশলে চারিদিকথেকে একযোগে আক্রমণ শুরু করে সিরাজগঞ্জ মুক্ত করার জন্যে। সকল মুক্তি যোদ্ধাদের  সমবেত করার জন্যে সিরাজগঞ্জের মুক্তি যুদ্ধের সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন ভুলু ও আমিনুল ইসলাম চৌধুরী ( মুজিব বাহিনীর গেরিলা ) উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
 
মুজিব বাহিনীর গেরিলা দলসহ সহস্রাধিক মুক্তিযোদ্ধারা  ১০ ডিসেম্বর শহর থেকে ৩ মাইল দুরে শৈলাবাড়ি ক্যাম্পসহ শহরের বিভিন্ন পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে একযোগে আক্রমণ করে। ৩ দিনের এই যুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিপুল ক্ষয় ক্ষতি  নিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর ভারী  অস্ত্রশস্ত্রের বিরুদ্ধে মুক্তি যোদ্ধারা  থ্রি নট থ্রি  রাইফেল, এস এল আর ও মাত্র ৪ টি এল এম জি নিয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। এই যুদ্ধে পাঞ্জাব রেজিমেন্টের ৪ জন ক্যাপ্টেন সহ ১৮ জন সৈন্য নিহত হয়।
 
৩ দিনের এই যুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধারা অসীম সাহসিকতার সাথে মরণপণ যুদ্ধ করে নিহত হন ইঞ্জিনিয়ার আহসান হাবিব, সুলতান মাহমুদ ও মকবুল হোসেন কালু। 
 
মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে টিকতে না পেরে ১৩ ডিসেম্বর মধ্যরাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী রেল যোগে ঈশ্বরদীর অভিমুখে পালিয়ে যায়। ১৪ ডিসেম্বর ভোরে হাজার হাজার জনতা ও বিজয়ী মুক্তিবাহিনী জয় বাংলা শ্লোগানে মুখরিত করে সিরাজগঞ্জ শহর দখল করে নেয় এবং আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বাধীন বাংলার মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
 
সিরাজগঞ্জ  মুক্তদিবস উপলক্ষে আজ ১৪ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে সকাল ১০ টায় মুক্তিযোদ্ধা জনতার বিজয় শোভাযাত্রা, বিকালে আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান।
 
ইত্তেফাক/এমআর