পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে কপিলমুনি ইউপির কার্যক্রম

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ১২:১৮
 
পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় ৬০ বছর পূর্বে নির্মিত ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে কপিলমুনি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) কার্যক্রম। দ্বিতল ভবনের ছাদসহ বিভিন্ন স্থানের পলেস্তরা খসে পড়ছে। অতিরিক্ত চাপে দোলখায় ভবনের অংশ বিশেষ। আকস্মিক দুর্ঘটনা এড়াতে কর্তৃপক্ষ ভবনের বিভিন্ন স্থানে বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রেখেছে।
 
দক্ষিণ খুলনার অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা কপিলমুনির প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত ইউপি ভবনটিতে প্রতিদিন বিচারিক কার্যক্রম, বিভিন্ন এনজিওর  সভা সমাবেশসহ বিচারিক কার্যক্রমে এলাকার হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এমন অবস্থায় যে কোন সময় ঘটেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক ভবনটিকে অত্যন্ত  জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ  বলে মন্তব্য করলেও এখনও পর্যন্ত পরিষদের নতুন কোন ভবন নির্মাণ কিম্বা সংস্কার কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
 
পরিষদ সূত্র জানায়, ১৯৬০ সালে পাকিস্তান আমলে কপিলমুনির প্রাণ কেন্দ্রে  স্থাপিত হয় কপিলমুনি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি। এর মধ্যে পার হয়ে গেছে ৫৭ টি বছর। বর্তমানে ভবনে  প্রতিটি দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে খসে পড়ছে পলেস্তরা। দোতলা ফ্লোরের অধিকাংশ জায়গায় কংক্রিট উঠে সেখানে তৈরি হয়েছে বড় বড়  গর্তের। পলেস্তরা খসে বেরিয়ে পড়েছে মরিচা ধরা রড। যেটুকু এলাকা ভাল আছে সেখান থেকে উকি মারছে পুরনো রডগুলি। বিভিন্ন স্থানে পটি মেরে কোন মতে পরিষদের কার্যক্রম চলছে। ঠিক এমন অবস্থায় চরম আতংকের মধ্যে পরিষদের সকল প্রকার কাজ করে যাচ্ছেন চেয়ারম্যানসহ সকল সদস্যবৃন্দ।
 
সূত্র আরো জানায়, এর আগে ২০০৬ সালে ভবনটিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে থেকে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের স্বয়ংসম্পন্ন প্রস্তাব দেয়া হয়। গত ৭ নভেম্বর খুলনা জেলা প্রশাসক আমিনুল আহসান পাইকগাছা উপজেলা পরিদর্শন শেষে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে কপিলমুনি ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেন। এ সময় পরিদর্শন বইতে তিনি অত্যন্ত জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসের সম্পন্ন অনুপযোগী বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ভবনটি ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণের কথা উল্লেখ করেন।
 
পরিষদের চেয়ারম্যান কওসাসার আলী জোয়াদ্দার বলেন, অত্যন্ত নিরাপত্তাহীনতায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা ইউনিয়ন পরিষদের কসকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সর্বশেষ উপজেলা মাসিক সাধারণ সভায় গত ১৩ জুলাই ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ