সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ঘরের ভিতরে দুর্বৃত্তদের ছুঁড়ে মারা পেট্রোলের আগুনে স্বামী-স্ত্রী দগ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার ভোরে উপজেলার জয়নগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে মারাত্মক দগ্ধ আব্দুল হামিদকে (৫২) সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধ আব্দুল হামিদ ওই গ্রামের রথখোলা পাড়ার সাজ্জাদ আলী মোল্লার ছেলে। জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন দগ্ধরা।
সরেজমিনে গ্রামবাসীরা জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আব্দুল হামিদ ঘরের মধ্যে ঘুমিয়ে ছিলো। বুধবার ভোর রাতে তারা স্বামী-স্ত্রী ঘরের ভিতর আগুন ধরে গেছে বলে চিৎকার করতে থাকে। ছুটে গিয়ে দেখা যায়। হামিদের দুই হাত অংশ বিশেষ ও কপালের কিছু অংশ আগুনে ঝলসে গেছে। কি করে ঘরের মধ্যে আগুন লাগল তা তারা জানে না বলে উপস্থিত গ্রামবাসীদের জানায়।
ঘটনার একদিন পর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কৃষক আব্দুল হামিদ জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে তিনি কুয়েতে যাওয়ার সময় একই গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান রিয়াজউদ্দিন সরদারের ছেলে মো. শামীম হোসেনের কাছে ১০ কাঠা জমি ২৩ হাজার টাকায় বন্ধক রাখেন। সুবিধামতো সময়ে টাকা ফেরত দেয়ার পর জমিটি ছেড়ে দেয়ার কথা ছিলো। গত দুই সপ্তাহ আগে তিনি তার বোন মাহমুদা বেগমকে সাথে নিয়ে নিয়ে ২৩ হাজার টাকা নিয়ে জমিটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য শামিম হোসেনকে অনুরোধ করেন। শামিম টাকা নিয়ে ওই জমি ছেড়ে দেবেন না জানিয়ে উল্টো তাকে ওই জমিটি রেজিস্ট্রি দলিল করে দিতে বলেন। তা না হলে তাকে জমির পরিবর্তে তিন লাখ টাকা দাবি করেন।
বৃহস্পতিবার আব্দুল হামিদের স্ত্রী জাহানারা খাতুন জানান, বুধবার তার স্বামীকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ এনে শামীম হোসেন, সেলিম হোসেন ও বজলুর রহমানের বিরুদ্ধে কলারোয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
ইউপি সদস্য বিএনপি নেতা বজলুর রহমান জানান, সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দীনের ছেলেদের সাথে বিএনপি কর্মী আব্দুল হামিদের পরিবারের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। ঘটনার সময় আহতরা কাউকে দেখতে পায়নি বলেও পাড়া প্রতিবেশীদের জানায়। টাকা না দিয়ে জমিটি ফেরত নেয়ার জন্য ঘটনাটি সাজানো নাটক বলে গ্রামবাসীরা তাকে জানানোর পর তিনি পুলিশকে অবহিত করেন। গ্রামবাসীদের বরাত দিয়ে আমার বলা কথাগুলো আহতদের পক্ষে না যাওয়ায় মামলায় তারা আমাকেও আসামি করতে চাইছে।তদন্তকালে সব প্রতিবেশীরা প্রমাণ দেবে।
কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার নাথ জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। দোষীদের খুঁজে বের করার তদন্ত চলছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরসকাটি পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক আমিনুল ইসলাম জানান, পাড়া প্রতিবেশী ও গ্রামের অনেকে বলছেন বিষয়টি সাজানো। ঘটনার পর আগুনে আহতদের ঘরের মধ্য থেকে থেকে একটি পেট্রোল রাখার ছোট পাত্র ও কাপড় জড়ানো পেট্রোল ভেজানো একটি ছোট লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেরিনা আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ইত্তেফাক/জামান
