ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর আলিমুদ্দিন বাংলাবাজার, আর কাচারির হাট ল্ঞ্চ ঘাটে পল্টুন না থাকায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। একদিকে শীতের মধ্যে পানিতে ভিজে লঞ্চে ওঠা-নামা করছে।
অন্যদিকে লঞ্চে ওঠার আগ পর্যন্ত শীতের রাতে খোলা জায়গায় কুয়াশার মধ্যে বসে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্রাকৃতিক কাজে সাড়া দিতে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় মহিলা যাত্রীদের। বর্ষাকালে আবার ভিজতে হয় পানিতে। একই অবস্থা বিরাজমান তেতুলিয়ার সাচড়া ইউনিয়নের কাচারির হাট ঘাটে।
লঞ্চযাত্রী ও ঘাট এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানায়, ঢাকা থেকে বেতুয়াগামী লঞ্চগুলো বোরহানউদ্দিন উপজেলার মেঘনা নদীর আলিমুদ্দিন বাংলা বাজার ঘাটে আসে ভোর রাত তিনটায়। আবার বেতুয়া থেকে আসে ওই স্থানে আসে রাত আটটায়। অন্যদিকে ঢাকা থেকে লালমোহনগামী লঞ্চগুলো তেতুলিয়া নদীর কাচারির হাট ঘাটে আসে সকালে। আবার লালমোহন থেকে ওই ঘাটে আসে সন্ধ্যায়।
যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো ডালার সময় (ভাটা) ঘাট এলাকায় পানি কম ও নাব্যতা কম থাকায় নদীর মধ্যেই সিড়ি ফেলে। যার কারণে নারী-পুরষ আর শিশুরা লঞ্চে উঠা-নামার সময় ভিজে একাকার। পল্টুন না থাকার কারণে তীরে ঘাট না দেয়ায় হাটু কোমর পানিতে ভিজেই মালামাল সহ যাত্রীদের উঠা নামা করতে হয়।
মেঘনার আলিমুদিদন বাংলা বাজার ঘাট এলাকায় গেলে কথা হয় স্থানীয়দের সাথে। ঘাট এলাকার দোকানদার নুরুল আমিন জানায়, জোয়ার থাকলে সমস্যা হয় না। ভাটা থাকলে উঠতে নামতে ভিজতে হয়। শীতে সময় দূর-দূরান্তের যাত্রীদের ভোগান্তি চরম হয়। এ সময় সোহেব হাং, বড় মানিকা ৯ নং ওয়ার্ডের ফারুক, পক্ষিয়া ৮ নং ওয়ার্ডের জসিম জানায়, এ ঘাটে রাত তিনটায় ঢাকা থেকে লঞ্চ আসে। আবার রাত আটটায় ঘাট করে ঢাকার দিকে যায়। প্রতিদিন ন্যূনতম এক থেকে দেড়শ যাত্রী উঠে। একটি পল্টুন থাকলে সরকারের আয় হতে। যাত্রীরা ও নিরাপদে যাতায়ত করতে পারত। ঘাটে এলাকায় কর্মরত মাছ ব্যবসার সাথে জড়িত বড় মানিকা ইউনিয়নের মোসলে উদ্দিন জানায়, মাঝের ঝুড়ি নিয়ে হাটু সমান পানির মধ্যে দিয়ে মাছ লঞ্চে উঠাই। ভিজে পুরে একাকার হতে হয়।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌসংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগের (বরিশাল) যুগ্ম পরিচালক মো. রফিকুল ইসলামের অসুস্থতাজনিত কারণে বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
ইত্তেফাক/এএম।
