চলতি বছর হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়ন হারে পরিষদ করেছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) ৩০ হাজার বাড়ির মালিক। তাদের গুনতে হয়েছে গত বছরের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ গুণ বেশি অর্থ। আর অতিরিক্ত ট্যাক্স কমিয়ে সহনীয় করতে আপিল করেছেন আরও প্রায় ৩০ হাজার বাড়ির মালিক। ১০০ টাকা ফি দিয়ে করা আপিল নিষ্পত্তির কথা ছিল চলতি মাসের হোল্ডিং ট্যাক্স সংক্রান্ত বোর্ডের সভায়।
কিন্তু এরই মধ্যে দেশের সকল সিটি কর্পোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়ন-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত করেছে সরকার। হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এবং অতিরিক্ত ট্যাক্স আদায়ের বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় সরকার এই কার্যক্রম স্থগিত করে। ফলে ৬০ হাজার বাড়ির মালিকের ট্যাক্স এবং আপিল ফি নিয়ে নতুন জটিলতায় পড়েছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন।
রাসিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়ন কার্যক্রম বন্ধ সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের চিঠি পৌঁছেছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব আবুল ফজল মীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারের অনুমতি ছাড়া কেউ এই কার্যক্রম চালু করতে পারবে না। ভবিষ্যতে অনলাইন ভিত্তিক অটোমেশন পদ্ধতিতে কর আদায় করা হবে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সূত্র মতে, গত ৭ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে সিটি মেয়রগণ উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে জানানো হয়, হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়ন নিয়ে বিপুলসংখ্যক আপত্তি স্থানীয় সরকার বিভাগে জমা পড়েছে। বেশির ভাগ অভিযোগই পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে। পুনর্মূল্যায়নে প্রথাগত ম্যানুয়াল (অযান্ত্রিক) পদ্ধতি অনুসরণ করার কারণেই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়ন ক্ষেত্রে অনেকে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নেই। নাগরিক সেবা প্রদান কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, জনবান্ধব ও অনলাইনে সম্পাদন নিশ্চিত করতেই হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়ন-সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম স্থগিত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (ট্যাক্সেশন) রুলস ১৯৮৬-এর বিধান অনুসারে, প্রতি পাঁচ বছর পরপর হোল্ডিং ট্যাক্স নতুন করে পুনর্মূল্যায়ন হওয়ার কথা।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে কোনো অনুমোদন না নিয়েই দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র চলতি বছরের শুরুর দিকে হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু করেন। সেখানে ১০ থেকে ১৫ গুণ কর বৃদ্ধি করা হয়। এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে মহানগরীর সাধারণ মানুষ। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
মেয়র বুলবুল স্বীকার করেন, ৩০ হাজার বাড়ির মালিক ইতিমধ্যে অতিরিক্ত টাকা জমা দিয়েছেন। অতিরিক্ত টাকা কমানোর জন্য আরও ৩০ হাজার বাড়ির মালিকের আপিল সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। এখন এই কার্যক্রম স্থগিত করায় নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা ওদের টাকা কীভাবে ফেরত দেব? এ নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আলোচনার পর তাদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ইত্তেফাক/এমআই
