নাটোরের বাগাতিপাড়ার সেই ১ টাকার মোড়ে চা পান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাজারও মানুষের অংশগ্রহণে গতকাল শনিবার দিনব্যাপী ওই উৎসব চলে।
ওই চা পান উৎসবকে প্রাণবন্ত করতে গ্রামের বিভিন্ন ঐতিহ্য তুলে ধরতে আয়োজন করা হয় পিঠা পুলি ও লাঠি খেলা। উৎসবে আগত প্রায় কয়েক হাজার মানুষকে এক টাকার মোড়ের রূপকার রজব বেপারী লালন নিজ হাতে বিনামূল্যে তার ছয় স্বাদের চা পান করান। গ্রামবাসীর উদ্যোগে সবাইকে ১ টাকায় কুড়ি পিঠা ও চিতা পিঠা খাওয়ানো হয়।
উৎসবে অংশ নিয়েছেন স্থানীয় সাংসদ মো.আবুল কালাম, বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন বানু, এসিল্যান্ড মেরিনা সুলতানা, মডেল থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন, ওসি তদন্ত স্বপন কুমার, 'ক্যাব' সভাপতি আব্দুল মজিদ, প্রেসক্লাব সভাপতি রফিকুল ইসলাম রোজ প্রমুখ। স্থানীয় ফাগুয়ার দিয়াড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উৎসবে বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম তপু, মুক্তার হোসেন, ক্লিন বাংলাদেশ এর পরিচালক মোস্তফা কামাল।
সাংসদ আবুল কালাম উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে বলেন, 'আমার নির্বাচনী এলাকায় রজব বেপারী লালনের মত লোক বসবাস করছেন, এমনটা জেনে আমি গর্বিত বোধ করছি। নামমাত্র মুনাফায় তিনি চা পান করানোর মাধ্যমে গ্রামের মানুষকে একত্রিত করে ভাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ রেখেছেন। এ খবর আমি জাতীয় সংসদে তুলে ধরবো। সরকারি উদ্যোগে এখানে জাতীয় চা উৎসব করার উদ্যোগ নিবো। সাংসদ রজবের চায়ের দোকানে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে একটি এলইডি টেলিভিশন ও সরকারি খরচে একটি সোলার ল্যাম্প স্ট্যান্ড উপহার দেন।'
IMG0
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে প্রথমে লালন মাত্র পাঁচশ' টাকা পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। প্রায় দু'যুগ ধরে এই চায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসা করে তিনি এখন স্বাবলম্বী। ব্যবসার প্রথম দু'বছর পঞ্চাশ পয়সা করে এককাপ চা ও একটি পান বিক্রি করেছেন। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি এক টাকা করে চা ও পান বিক্রি করে আসছেন। তার দোকানে প্রতিদিন প্রায় ১৫শ' কাপ চা ও ১২/১৩শ' পান বিক্রি হয়। অতি সামান্য লাভ করেই তিনি এখন নিজেকে স্বাবলম্বী মনে করেন। আর লালনের এই ১ টাকার চা নিয়ে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় 'দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে ১ টাকায় চা !' শিরোনামে চলতি বছরের ২৫ অক্টোবর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ইত্তেফাক/জামান
