ঘাট ও ফেরি সংকটের কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। যথাসময়ে গাড়ি পার হতে না পারায় উভয় ঘাটে দেখা দিয়েছে গাড়ির জট। ১২-১৩ ঘণ্টা পর রাতের গাড়ি পরদিন সকালে পার হচ্ছে। গতকাল রোববার দুপুরে দৌলতদিয়া প্রান্তে তিন কিলোমিটার লম্বা লাইন তৈরি হয়।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয় জানায়, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ১৮টি ফেরি প্রয়োজন হলেও বর্তমানে চলছে ১৬টি। প্রয়োজনের তুলনায় কম সংখ্যক ফেরি থাকায় যথাসময়ে গাড়ি পার হচ্ছেনা। দৌলতদিয়ায় পাঁচটি ঘাট থাকলেও সচল রয়েছে চারটি। এরমধ্যে কয়েকদিন ধরে ১ ও ২ নম্বর ঘাটের সামনে খননযন্ত্র (ড্রেজার) ও তার যন্ত্রাংশ থাকায় সহজে কোন ফেরি ভিড়তে পারছেনা বা যানবাহন ওঠানামা করতে পারছেনা। বাকি ৩ ও ৫ নম্বর ঘাট দুটি সচল থাকায় বাড়তি চাপ পড়ছে।
আজ রবিবার সকাল ৮টার পর থেকে বেলা ১০টা পর্যন্ত কুয়াশায় ফেরি বন্ধ না হলেও পারাপার ব্যাহত হয়। এসব কারণে উভয় ঘাটে শত শত গাড়ি আটকা পড়ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দুই-তিন কিলোমিটার দূরে গাড়ি ফেলে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে লঞ্চ ও ফেরি ঘাটে পৌছতে হচ্ছে।
রবিবার দুপুরে দেখা যায়, ঘাট থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার লম্বা দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়ক জুড়ে গাড়ির দুই-তিন সারি। এরমধ্যে যাত্রীবাহী বাস, জরুরী পণ্যবাহী ও সাধারণ গাড়ি রয়েছে। আগের দিন মধ্যরাতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অনেক যাত্রীবাহী নৈশ কোচও রয়েছে।
পরিবহন চালকেরা জানান, রাত প্রায় তিনটা পর্যন্ত অনেক যাত্রীবাহী বাস রেখে কাঁচামালের গাড়ি আগে পার করায় ভোগান্তি বেশি হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘাট ও ফেরি স্বল্পতা ছাড়াও বিজয় দিবসের ছুটি থাকায় বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত গাড়ি ও মানুষ বাড়িতে আসে। এসব গাড়ি ও মানুষ ফের কর্মস্থলে ছুটে চলায় ঘাটে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কুয়াশার কারণেও যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। বাসস।
ইত্তেফাক/এমআর
