মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজশাহী মহানগরীতে বসবাসরত খেতাবপ্রাপ্ত, যুদ্ধাহত ও সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দিয়েছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। রবিবার সন্ধ্যায় নগরভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাসিক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।
রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ মোমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও রাসিকের প্রথম মেয়র মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুল হাদী, সাবেক মেয়র মো. দরুল হুদা, সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র মুক্তিযোদ্ধা রেজাউন নবী দুদু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান, সাবেক জেলা কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম খোকা, মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার মতিউর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধকালীন বিএলএফ কমান্ডর মো. রফিকউদ্দৌলা খান।
রাসিক মেয়র বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের প্রতি সম্মান ও ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ রাজশাহী। মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদানের কর্মসূচি স্বাধীনতা দিবসেও আয়োজন করা হবে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মিক সম্পর্ক রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আপনাদের সম্মান মানেই রাজশাহী মহানগরবাসীর সম্মান, আপনাদের সম্মান মানেই রাজশাহী সিটি কর্পোশেনের সম্মান। আপনাদের সম্মানিত করতে পারলে বর্তমান প্রজন্ম গৌরবান্বিত হবে।
মেয়র বলেন, আপনারা যুদ্ধকালীন সময়ে জীবন বাজি রেখে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। লাল সবুজের পতাকার জন্য সেদিন নিজেদেরকে উত্সর্গ করেছিলেন। মহানগরীকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা কামনা করেন মেয়র। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, রাসিকের সচিব খন্দকার মো. মাহবুবুর রহমান। এসময় মহানগরীর বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধাকে আরএমপি সংবর্ধনা
রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) আয়োজনে ‘বাংলাদেশ পুলিশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার আরএমপি পুলিশ লাইনস কনফারেন্স রুমে ২৪ পুলিশ মুক্তিযোদ্ধা ও ১১ সাধারণ বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ ৩৫ মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন আরএমপি পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান পিপিএম। অনুষ্ঠানে আরএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার তমিজউদ্দীন আহমেদ, ডিসি (সদর) তানভীর হায়দার চৌধুরী, ডিসি (পশ্চিম) মোঃ আমির জাফর, ডিসি (পিওএম) মোহাম্মদ হেমায়েতুল ইসলাম, ডিসি (সিটিএসবি) আবু আহাম্মদ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মো. আব্দুল মান্নান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম রাজা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন প্রামাণিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রবিউল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. হেমায়েত আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামালসহ পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন, এমন বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ ও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। অনুষ্ঠানের শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণকে আরএমপির পক্ষথেকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাগণ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়কার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসমূূহ আলোচনা করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের সাহসী ভূমিকার কথা বর্ণনা করেন।
ইত্তেফাক/এএম।
