ফুলবাড়ীতে হলুদ রঙের সমারোহ

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৩:২৮
 
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এখন মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহ। যেন চারিদিকে সরিষা ফুলের হলুদ রঙে ভরে উঠেছে ফসলের মাঠ। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে গেছে প্রকৃতির রূপ। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে সরিষার আবাদ গত বছরের চেয়ে ভাল হয়েছে।
 
সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা ফুলবাড়ির কৃষকদের মুখে হাসির ঝিলিক। উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাগণ কৃষকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সরিষা ক্ষেত দেখে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে কিছু কিছু সরিষার ফল ধরতে শুরু করেছে। সরিষা চাষের কারণে কৃষকের ইরি-বোরো আবাদের কিছুটা খরচ কমে। সরিষার আবাদের কারণে জমিতে বাড়তি হাল চাষ, সার ও কীটনাশক ঔষধ দেওয়ার তেমন দরকার পড়ে না। ফলে স্বল্প খরচ ও কম পরিশ্রমেই সরিষার জমিতে ইরি-বোরো আবাদ হওয়ায় কৃষকরা লাভবান হন। সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় কৃষকরা ভালো দামের আশায় স্বপ্ন দেখছেন। প্রতি বিঘা জমিতে টরী ৪/৫ এবং বারি ৫/৬ মন হারে ফলন হতে পারে বলে জানান কৃষি অফিস ও কৃষকরা।
 
উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষা ফেরুষা গ্রামের কৃষক মমিনুল ইসলাম জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে প্রায় ছয় বিঘা জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করেছেন। গত বছরের চেয়ে এ বছর ফলন ভাল হয়েছে। আশা করছি বিঘা প্রতি ৫ থেকে ৬ মন করে সরিষা ওঠবে। সরিষার জমিতেই ইরি-বোরো আবাদ ভাল হয় এবং খরচ কিছুটা কমায় । সরিষা বিক্রি করে ওই জমিতেই ইরি-বোরো আবাদ করা হয়ে থাকে।
 
চন্দ্র খানা গ্রামের কৃষক বাবুল ইসলাম জানান, এ বছর দুই বিঘা জমিতেই বারি-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করা হয়েছে। বিঘা প্রতি ২-৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ বছর সরিষার গাছও ভাল হয়েছে। গাছে গাছে প্রচুর পরিমাণে ফুল ধরায় আশানুরূপ ফলন হবে বলে মনে করছেন তিনি।
বর্তমানে পুরাতন সরিষার বাজার দর ২২শ' থেকে ২৩শ' টাকা মন হলেও নতুন সরিষা ওঠার সময় এর দাম ১৫শ' থেকে ১৬শ' টাকা মন দরে বিক্রি হবে। ফলে সরিষার ক্ষেত দেখে খুশি হলেও দাম কম হওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
 
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুর রশিদ জানান, এ বছর উপজেলার ৮শ' হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। উন্নত জাতের উচ্চ ফলনশীল সরিষা টুরী-৭,বারী -১৪ ও ১৫ বেশি পরিমাণে আবাদ করেছেন কৃষকরা। সরিষা আবাদের জন্য কৃষি অফিস সব সময় কৃষকের মাঠে মাঠে গিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এ বছর সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সরিষা কৃষকের লাভজনক ফসল।
 
ইত্তেফাক/জামান