রেল লাইনের ত্রুটি দেখে শীত নিবারণে ব্যবহৃত নিজেদের লাল মাফলার দেখিয়ে একটি তেলবাহী ট্রেনকে দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষার নায়ক দুই শিশুর (সিহাব এবং লিটন) লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। সোমবার বিকেলে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে স্ট্যাটাস দিয়ে তাদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান তিনি।
এদিকে নিশ্চিত দুর্ঘটনার কবল থেকে ট্রেন রক্ষা করে রাতারাতি আলোচনার শীর্ষে আসা দুই শিশুকে মঙ্গলবার নিজ হাতে পুরস্কৃত করেছেন বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন রেজা। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রেল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই দুই শিশুর হাতে স্কুল ব্যাগ, টিফিন বক্স ও শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন আড়ানী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুজ্জামান শাহীদ, সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান, আড়ানী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক রফিকুল ইসলাম রফিক, যুগ্ম সম্পাদক এনামুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম, উপজেলা জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি শিক্ষক আমানুল হক আমান, জেলা ছাত্রলীগের সদস্য ফারুক হোসেন প্রমুখ।
IMG0
জানা গেছে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম দুই শিশুর লেখাপড়ার সকল দায়িত্ব নিয়েছেন। তাদের দুইজনকে প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে নিজের অর্থায়নে বৃত্তি প্রদান করবেন। এছাড়া তাদের এসএসসি পাশের পর পুনরায় আলাদাভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তিনি। নিজের ফেসবুক পেইজে প্রতিমন্ত্রী লিখেছেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকায় আড়ানী রেল লাইনের পাশেই আবাস তাদের। তাদের সারা জীবনের শিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছি।’
মঙ্গলবার সকালে ঝিনা গ্রামের দুই শিশুর বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, তারা দুইজন অতিদরিদ্র পরিবারের সন্তান। লিটনের বাবা সহিদুল ইসলাম গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করেন। আর মা মুনিয়ারা বেগম অন্যের বাড়িতে ঝি-এর কাজ করেন। তাদের তিনটি সন্তান রয়েছে। এরমধ্যে বড় ছেলে টিটন (১০), মেজো ছেলে লিটন (৭), ছোট ছেলে মিঠুন (৫)। তাদের নিজস্ব কোন জমি নেই। রেলওয়ের জমিতে একটি টিনের ছাপরা ঘর তুলে বসবাস করছেন তারা।
IMG1
অপরদিকে সিহাব হোসেন বাবা সুমন হোসেন অন্যের জমিতে কৃষি শ্রমিকের কাজ করে চার সদস্যের সংসার চালান। তারাও রেলওয়ের জমিতে একটি টিনের ছাপরা ঘর তুলে বসবাস করছেন। নিজম্ব কোন জমি নেই। সিহাবের মা রিতা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। স্বামী-স্ত্রী উভয়ের উপার্জনের টাকায় কোন মতে তাদের সংসার চলে। সিহাবের আরেকটি ভাই রয়েছে। তার নাম সাকিল (২)।
উল্লেখ, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাঘা উপজেলার আড়ানী স্টেশনের কাছে ঝিনা রেলগেটে লাইন ভাঙা দেখে সিহাব এবং লিটন উপস্থিত বুদ্ধি খাঁটিয়ে শীত নিবারণে নিজেদের লাল মাফলার চালককে দেখিয়ে ট্রেন থামানোর সংকেত দেয়। এতে ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা পায়।
ইত্তেফাক/আরকেজি
