মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের ভোলারকান্দি গ্রাম থেকে মা, মেয়ে ও ছেলের তিনটি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এই লাশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা তিনজন হচ্ছেন কাতার প্রবাসী আকামত আলীর স্ত্রী মাজেদা বেগম (৩৬), মেয়ে লাবণী বেগম (৭) ও ছেলে ফারুক আহমদ (৪)। ঘটনার পর থেকে ওই বাড়ির সকল পুরুষ পলাতক। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা, এ নিয়ে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে নানা সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) আবু ইউছুফ। রাত ১১টায় এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত লাশ ঘটনাস্থলেই ছিল। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য পুলিশ কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। ঘটনাটি রহস্যজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাতার প্রবাসী আকামত আলীর স্ত্রী বসত বাড়ীর প্রায় ১শ গজ অদুরে মিস্ত্রী দিয়ে ঘর নির্মাণ করাচ্ছেন। প্রতিদিন তিনি মিস্ত্রীদের সাহায্য সহযোগিতা করতেন। মঙ্গলবারও তিনি বসত ঘর ও নির্মাণাধীন স্থানে যাওয়া আসা করছিলেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মিস্ত্রী সিমেন্টে নিতে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করে। দীর্ঘক্ষণ সাড়া না পেয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে মাজেদাসহ মেয়েকে ঝুলন্ত দেখে লোকজনকে জানায়।
খবর পেয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মাসুক আহমদ ও আ’লীগ নেতা মোক্তার আলী পুলিশে খবর দেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও মেয়ের ঝুলন্ত লাশ ও মেঝে থেকে শিশুপুত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মাসুক আহমদ বলেন, তিনি বিকেল ৫টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন। কি কারণে ঘটনাটি ঘটেছে তা নিশ্চিত নন। ধারণা করছেন বিকেলের দিকে ঘটনাটি ঘটেছে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘরের ভেতরে বাসনকোসন এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। আলমারির জিনিসপত্র তছনছ করা।
বড়লেখা থানার অপারেশন অফিসার অমিতাভ দাস তালুকদার রাত ১০টায় বলেন, ‘ঘরের তীরের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে মা ও মেয়েকে। ছেলের লাশ মেঝেতে পাওয়া গেছে। আনুমানিক দুপুর একটা থেকে আড়াইটার মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি রহস্যজনক। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তা এ মুহূর্তে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।’
ইত্তেফাক/নূহু
