মহান মুক্তিযুদ্ধে মা ও মাটিকে রক্ষা করতে নিজের জীবন বির্সজন দিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। এমন অনেক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আজ চিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে আছেন অনেকটা অবহেলা আর অনাদরে। তাদের স্মৃতিতে নির্মিত স্থাপনাগুলো রয়েছে একেবারেই বেহালদশায়। এরকম একটি চিত্র শহরের পৈরতলা গণকবর। এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের নামফলক ও স্মৃতিসৌধ একেবারেই নাজুক।
সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর প্রয়োজনে লোকবল নিয়োগ করে হলেও শহীদদের মর্যাদা এই গণকবরটিকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধারা।
সরেজমিনে দেখা যায় বেহালদশার চিত্র। জঙ্গলে পরিণত হয়েছে পৈরতলা গণকবরটি। যেখানে-সেখানে পড়ে আছে মাদক সেবনের আলামত। মানুষের মল পড়ে আছে গণকবরের মূলবেদিতে। শহীদদের সমাধিস্থলের শ্বেতপাথরে খোদাই করা নামফলকটিও নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। পৌর এলাকায় হলেও কোনো সড়ক নির্মিত হয়নি। ফলে কাঁদা মাড়িয়ে দিয়ে যেতে হয় এই গণকবরে।
স্থানীয় বাসিন্দা কুুুুদ্দুস মিয়া বলেন, সরকার গণকবরটি সংরক্ষণে কয়েক বছর আগে উদ্যাগ নেয়। তবে ইটের প্রাচীর নির্মাণের পর সে কাজ আর এগোয়নি। বর্তমানে গণকবরটি মাদকসেবী আর অনৈতিক কর্মকান্ডের আঁখড়ায় পরিণত হয়েছে’। গণকবরে আসার সড়ক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলে বধ্যভূমিটির পবিত্রতা রক্ষা সম্ভব হবে বলেও দাবি তার।
গণকবরের পাশে বাস করা কয়েকজন বলেন, গণকবরটির সংস্কারে জনপ্রতিনিধিরা বারবার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার হারুন-অর রশিদ বলেন, ‘আমরা চাই, পৈরতলা গণকবরসহ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিবিজড়িত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সকল স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে লোকবল নিয়োগ করবে সরকার। বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাগুলো অসম্মানিত হচ্ছে, তা আমাদের জন্য কষ্টদায়ক’।
জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতি ছড়িয়ে রয়েছে। যেসব স্থাপনা অযত্নে ও অবহেলায় পড়ে আছে, সেগুলোর বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো’।
ইত্তেফাক/নূহু
