ইভিএমের মাধ্যমে প্রথম ভোট

কে হচ্ছেন নগর পিতা

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৭, ২২:৩০
 
রংপুর সিটি কর্পোরেশনে (রসিক) ভোটযুদ্ধের মধ্যদিয়ে বৃহস্পতিবার নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন দ্বিতীয়বারের নগর পিতা। ‘কে হচ্ছেন নগর পিতা’ এনিয়ে গোটা নগরে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
 
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু, জাতীয় পার্টির (জাপা) মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও বিএনপি মেয়র প্রার্থী কাওসার জামান বাবলার মধ্য থেকেই নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন নগর পিতা। চমক আসতে পারে বৃহস্পতিবারের ফলাফলে। এখন শুধুই অপেক্ষা। রাত পোহালেই ভোট গ্রহণ। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা এ ভোট গ্রহণ চলবে। বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বুধবার সব ভোট কেন্দ্রেই পাঠানো হয়েছে ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপারসহ নির্বাচন সামগ্রী। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রংপুর জুড়ে এখন শুধুই উৎসবের আমেজ।
 
রসিক নির্বাচনে বাংলাদেশে প্রথম রংপুর বেগম রোকেয়া কলেজ কেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হবে। এছাড়া ওই কেন্দ্রসহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে থাকবে সিসি ক্যামেরা।
 
এদিকে দলীয় প্রতীকে রসিক নির্বাচনে প্রধান ৩ দল অংশ নেওয়ায় রংপুরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করলেও সহিংস ঘটনারও আশংকা করা হচ্ছে। ১৯৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৮ কেন্দ্রেকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে সর্বত্রই নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে রয়েছে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। থাকছে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
 
বৃহস্পতিবার রাতে রংপুর অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে রিটার্নিং ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার বলেছেন, উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন করার জন্য সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ৪ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে মাত্র ২৭জন প্রার্থীকে আচরণবিধি লংঘনের দায়ে সামান্য জরিমানা করা হয়েছে। এর বাইরে বড় ধরনের কোন আচরণবিধি লংঘনের ঘটনা ঘটেনি। ১৯৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ২টি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় পাশের বাড়ি থেকে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
 
রসিক নির্বাচন সুষ্ঠু পরিবেশ-সংক্রান্ত কমিটির সদস্য পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, বিশৃঙ্খলা চেষ্টাকারীদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। নির্বাচনের নিরাপত্তায় থাকবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৫ হাজার ৫শ সদস্য। এর মধ্যে বিজিবির ২১ প্লাটুন (৬৩০ জন), র‌্যাবের ৩৩টি টিম (৪০০জন) এবং পুলিশ ও আনসার সদস্য থাকবেন ৪ হাজার ৪৭০ জন। এছাড়া একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৩৩টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, একজন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনী মাঠে নামছে নির্বাচন কমিশনের ১১টি নীরব পর্যবেক্ষক দল। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব এসব কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রেখে সামগ্রিক পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য নির্বাচন কমিশনকে জানাবেন।
 
তিনি জানান, জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটসহ সব স্তরের কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবেন। কোন কেন্দ্রে গোলযোগ হলে যাতে দুই মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে যাওয়া সম্ভব হয় সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোন বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। ভোটাররা যাতে ভোটকেন্দ্রে নিরাপদে যেতে পারেন আবার ভোটও দিয়ে নিরাপদে ফিরে আসতে পারেন তার জন্য সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
 
দুপুরে নগরীর পায়রা চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব-১৩ এর অধিনায়ক কমান্ডার এটিএম আতিকুল্ল্যাহ বলেন, রসিক নির্বাচন উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় টহল দেবে হেলিকপ্টার। এছাড়া যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াডসহ র‌্যাবের সদস্যরা। র‌্যাবের পক্ষ থেকে দুপুরে নগরীতে মোটরসাইকেল ও গাড়ি নিয়ে মহড়া করা হয়।
 
সরেজমিনে দেখা গেছে, রংপুরের প্রবেশদ্বার, রংপুর শহর, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক চৌকি। পাড়া-মহল্লায় র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি টহল দিচ্ছে।
এরআগে সকালে রংপুর পুলিশ লাইন মাঠে নির্বাচনী সরঞ্জাম গ্রহণ এবং ভোটকেন্দ্রে সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, রিটার্নিং ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার, জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুজ্জামান ও পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
 
এদিকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টুর ছেলে ও জাতীয় পার্টির (জাপা) মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার মেয়ে বক্তব্যে ভোটারদের মাঝে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
IMG0
ঝন্টুর ছেলে রিয়াজ আহমেদ হিমনের বক্তব্য: 
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টুর একমাত্র ছেলে মোবাইল কোম্পানি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রিয়াজ আহমেদ হিমন বলেছেন, আমার বাবার ৩টি গুণ লক্ষ্য করেছি। এগুলো হলো, তিনি সৎ মানুষ, যারা সৎ পথে থাকে তাদের তিনি সম্মান করেন। আর যারা অসৎ পথে থাকেন তাদের তিনি ঘৃণা করেন। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা তার ধর্ম। তিনি অন্যায়ের সঙ্গে আপস করতে শেখেন নি। ফলে রংপুরের মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে দীর্ঘ ৮ বছর কারাবরণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন সৎ রাজনীতিবিদ। তাই তিনি আমার বাবার সততা, কর্মদক্ষতা ও জন সম্পৃক্ততা দেখে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। আমার বাবার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের কারণে রংপুরে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেনি। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন সৈনিক হিসেবে আমার পিতা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা রংপুরের উন্নয়নে যে ভূমিকা রেখেছেন এরআগে কোন সরকার তা করেনি। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে তিনি আমার বাবাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। রংপুরবাসী নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমার বাবাকে জয়ী করবেন বলে তিনি জানান। আমার বাবা জাতীয় সংসদ সদস্য, রংপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, রংপুর পৌরসভা চেয়ারম্যান এবং রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র পদে নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশে জনপ্রতিনিধি হিসেবে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। 
IMG1
মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার মেয়ে জারিন তাসনিমের বক্তব্য:
জাপার মেয়র প্রার্থী মহানগর সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার কন্যা মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ছাত্রী জারিন তাসনিম বলেছেন, আমার বাবা আমাদের থেকে জনগণের জন্যই বেশি সময় ব্যয় করেছেন। আমি শতভাগ গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আমি তার সন্তান হিসেবে যেভাবে নিজেকে গর্বিত মনে করি, ঠিক তেমনি আপনারা তাকে নির্বাচিত করলে পুরো মহানগরবাসী গর্বিত হবেন। আমি তার মেয়ে হয়ে সেই সাক্ষ্য দিচ্ছি। জারিন বলেন, জনগণ আমার বাবাকে মাটি ও মানুষের নেতা উপাধি দিয়েছেন। কারণ, তিনিই সেই নেতা যিনি যাদের ঘামের গন্ধে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে, তাদের সাথে মিলেমিশে আজকের এই অবস্থানে এসেছেন। তিনি আরও বলেন, আপনাদের কাছে একটা জিনিস প্রমাণিত হয়ে আছে, নির্বাচন এলে নেতারা এক ধরণের থাকেন। আর নির্বাচনের পর সেই নেতারা অন্য ধরণের হয়ে যান। আমি মোস্তফার মেয়ে হিসেবে আপনাদের কাছে ওয়াদা করছি, আমার বাবা মোস্তফাকে বিজয়ী করলে আপনাদের সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হবে। তিনি বলেন, আমার বাবার কাছে রাত নেই, দিন নেই- যখনই আপনাদের কোন সমস্যা তখনই তিনি ছুটে গেছেন। যদি তিনি ক্ষমতা পান, তাহলে সেই ক্ষমতাকে নিজের নয়, আপনাদের সেবায় নিয়োজিত করবেন।
 
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু বলেন, আমি জনগণের আমানত নিয়ে কখনও খেয়ানত করিনি। এ কারণে রংপুরবাসী আমাকে জাতীয় সংসদ সদস্য, রংপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, রংপুর পৌরসভা চেয়ারম্যান এবং রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুরের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি, রংপুরবাসী প্রধানমন্ত্রীর সম্মান রক্ষা করবেন।
 
বিএনপি মেয়র প্রার্থী কাওসার জামান বাবলা বলেন, রংপুরের মানুষ নৌকা আর লাঙ্গলকে চায় না। তাদের দুশাসনে পিষ্ট রংপুরবাসী ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেবে এবং ধানের শীষ মার্কায় সিল মেরে নিরব বিপ্লব ঘটিয়ে আমাকে জয়ী করবে।
 
জাপার মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, রংপুরের মাটি এরশাদের ঘাঁটি। রংপুরবাসী লাঙ্গল ছাড়া আর কিছুই বুঝে না। লাঙ্গলের জোয়ার উঠেছে। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে লাঙ্গলের জয় অবশ্যই হবে। রংপুরে লাঙ্গলের কোন বিকল্প নেই।
 
রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু (নৌকা), বিএনপির মেয়র প্রার্থী রংপুর মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি কাওসার জামান বাবলা (ধানের শীষ), জাপার মেয়র প্রার্থী রংপুর মহানগর সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা (লাঙ্গল), জাপা (এ) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের ভাতিজা বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী এইচএম আসিফ শাহরিয়ার (হাতি), বাসদের মেয়র প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস (মই), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু (হাত পাখা) ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মেয়র প্রার্থী সেলিম আখতার (আম) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২১১জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬৫জন প্রার্থী বিভিন্ন প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
IMG2
রাঙ্গা নগরী ঘুরেছেন রিকশায়: ভোট দিতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও জাপার রংপুর জেলা আহ্বায়ক মশিয়ার রহমান রাঙ্গা তিন দিন ধরে রংপুরে অবস্থান করছেন। সোমবার রংপুরে এসে এরশাদ তার দর্শনার পল্লীনিবাস বাসভবনে অবস্থান করছেন। এরপর তিনি বাড়ি থেকে বের হননি কিংবা নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ না নিলেও নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভাকাঙ্খিদের সঙ্গে বাড়িতেই মতবিনিময় করেন। এছাড়া ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে জাপার (এ) একাধিক শীর্ষ নেতারা রংপুরে অবস্থান করছেন। বেশ কয়েকজন এমপি সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রবেশ না করে মিঠাপুকুরে জাপা ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীরের বাসভবনে অবস্থান নিয়ে নির্বাচন কার্যক্রম মনিটরিং করছেন। 
এছাড়া তিন দিন ধরে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা রংপুরে অবস্থান করছেন। বুধবার সকালে তাকে একা রিকশায় নগরীতে ঘুরতে দেখা গেছে। তিনি প্রেসক্লাবে গিয়ে পত্রিকার হকারদের সঙ্গে খোশ-গল্প করে চা পান করেন। এরপর তিনি এক বাল্যবন্ধুর বাসায় গিয়ে নাস্তা করে নগরী ঘুরে বাসায় ফিরে যান। এরশাদ সেনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এবং মশিউর রহমান রাঙ্গা গুপ্তপাড়ার সালমা উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিবেন। 
 
জানা যায়, রংপুর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার পর দ্বিতীয় ভোট হচ্ছে এবার। ২০১২ সালের ২৮জুন রংপুর পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত। ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রথম নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হলেও এবার মেয়র পদে ভোট হচ্ছে দলীয় প্রতীকে। গত নির্বাচনে সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টুর কাছে পরাজিত মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এবার জাপার হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি প্রার্থী কাওসার জামান বাবলা প্রথম নির্বাচনে চতুর্থ অবস্থানে ছিলেন। বৃহস্পতিবার রংপুর সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচনে মোট ১৯৩টি ভোটকেন্দ্রের ১ হাজার ১৭৭টি ভোট কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫৯ এবং নারী ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৬২জন। এর মধ্যে তরুণ এবং নতুন ভোটার রয়েছে ৩৬ হাজার ২৮২জন। ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি