বানারীপাড়ায় নাজমা বেগম (৪৭) নামের এক গৃহবধুর আত্মহত্যা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ ডিসেম্বর শুক্রবার ওই গৃহবধু সন্ধ্যায় কীটনাশক পান করেন। পরে তাকে নিজ এলাকা বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না নিয়ে ২৭ কিলোমিটার দূরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে তার স্বামী মোঃ ফারুক গোমস্তা। সেখানে নাজমা বেগম মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় মারা যান।
নাজমার বাড়ি ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানার ৬নং মাসচর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে। নাজমা ওই গ্রামের মোঃ মজিবর রহমানের মেয়ে। তার মামা ইউপি সদস্য মোঃ মোতালেব শেখ জানান, নাজমা তার মায়ের গর্ভে থাকাকালীন পিতার সাথে বিচ্ছেদ ঘটে তার মায়ের। সেই থেকেই জীবিকার তাগিদে মা-মেয়ে ঢাকায় থাকতো। সেখানে বসে নাজমার সাথে পরিচয় হয় গাড়িচালক বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের মুসলিমপাড়া গ্রামের মোঃ আমির গোমস্তার ছেলে ফারুক গোমস্তার সাথে। তাদের বিয়ে হয়।
কিছুদিন ঢাকায় থাকার পরে ফারুক গোমস্তা স্ত্রীকে নিয়ে চলে আসেন গ্রামের বাড়িতে। আসার পর ভালোই চলছিল তাদের সংসার। তাদের দাম্পত্য জীবনে একে একে রমজান (১৬), নয়ন (১২) ও বিজয় (৯) নামের ৩ টি ছেলে সন্তান তাদের সংসারে আলো হয়ে আসে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ফারুক ও নাজমার জীবন বন্ধনের বয়স বর্তমানে ২৫ বছর ছুঁই-ছুঁই। এরই মধ্যে গত ৬/৭ মাস ফারুক অন্য মেয়ের সঙ্গে মেলামেশা শুরু করে। এ নিয়ে তাদের সংসারে প্রায়ই কলহ লেগে থাকতো।
এই কলহর সূত্র ধরে ফারুক তার স্ত্রীকে মানসিক ও শারিরীক নির্যাতন করতো। এদিকে নাজমা বেগমের মা রহিমা বেগম জানান, সে অসুস্থ্য থাকায় তার মেয়ে স্বামীর কাছে ১০ হাজার টাকা চায় তাকে দেবে বলে। কিন্তু তার মেয়ে জামাতা কিছুতেই টাকা দিতে রাজি ছিল না। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে ফারুক বেদম মারধর করে।
ফরিদপুর থেকে আসা নাজমার ননদ আরিফা বেগম জানান, তার কাছে নাজমা মোবাইলে ফোন করে প্রাই স্বামীর সংসারের ওপর অন্যমনস্ক থাকার কথা জানিয়েছে।
বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা নাজমা বেগমের লাশ পোষ্টমর্টেম করার পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
ইত্তেফাক/নূহু
