আনন্দের আবরণে শোক ঢেকে রাখার চেষ্টা। প্রিয় সুহৃদের মৃত্যুর পর তার জন্মদিনকে আনন্দ উচ্ছ্বাসে পালনে মিলিত হয়েছিলেন সবাই। গতকাল ছিল প্রয়াত কবি ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিলের ৪৯তম জন্মদিন। তার স্মরণে বাংলা একাডেমিতে কথা, কবিতা ও গানে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বুধবার বিকালে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বললেন, শাকিলের স্মরণে এ দিনটি উৎসবের, শোকের নয়।
একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে মাহবুবুল হক শাকিল সংসদের এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে এতে যোগ দেন রাজনৈতিক নেতা, কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ সামাজিক-সংস্কৃতি অঙ্গনের কর্মীরা।
শোক প্রকাশ না করতে চাইলেও তাকে দূরে ঠেলাও যায় না। এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বললেন, মৃত্যুর ছায়া প্রগাঢ়, তা আজ সরিয়ে ফেলা সম্ভবপর হচ্ছে না। শাকিল জীবনকে ভালোবাসতো নিজের মতো করে। সে যেভাবে জীবনকে উপভোগ করতে চেয়েছিল, তাতে আয়ু যদি কমে যায় তাতে তার মধ্যে কোন দুঃখবোধ ছিল না। মানুষটি এভাবে বেঁচে ছিল, ছেড়ে গেল আমাদের। শাকিল তার চারপাশকে এতটাই গুণমুগ্ধ করে রেখেছিল, এমনকি আমার মতো মানুষকেও মুগ্ধ করেছিল, তা থেকেও বোঝা যায়, আট দশ জন মানুষের চেয়ে শাকিল আলাদা ছিল।
কবি মাহবুবুল হক শাকিল স্মরণে প্রবর্তিত ‘মাহবুবল হক শাকিল পুরস্কার’ প্রদান করা হয় এই স্মরণ অনুষ্ঠানে। ‘বিব্রত ময়ূর’-কাব্যগ্রন্থের জন্য প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার পান তরুণ কবি রাসেল রায়হান। অনুষ্ঠানের কত্থন পর্বের মধ্যে ছিল শাকিলের কবিতা পাঠ, তার কবিতা থেকে রচিত গানের পরিবেশনা। স্মরণসভায় এসেছিলেন মাহবুবুল হক শাকিলের বাবা ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল হক, মা নুরুন নাহার, স্ত্রী নীলুফার আনজুম পপি ও মেয়ে জাকিয়া রুবাবা মৌপি।
ময়মনসিংহের বাসিন্দা শাকিলের জন্ম ১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলে। ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিনিয়র সহ-সভাপতি শাকিল ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে নবগঠিত আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সেল সিআরআই পরিচালনার দায়িত্ব পান। ২০১৪ সাল থেকে অতিরিক্ত সচিব মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর রাজধানীর গুলশানের জাপানি রেস্তোরাঁ সামদাদোতে শাকিলকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
ইত্তেফাক/আনিসুর
