স্বরূপকাঠি-বানারীপাড়া-বরিশাল সড়কের রায়েরহাট ব্রিজের মাঝে তিনটি গভীর গর্ত ও নিচে একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দেয়ায় ব্রিজটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর বেহাল অবস্থায় থাকলেও ব্রিজটি সংস্কার কিংবা পুনর্নির্মাণের কোন উদ্যোগ নেই সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষের।
এই অবস্থায় এলাকাবাসীর মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কবে নাগাদ ব্রিজটি সংস্কার কিংবা পুনর্নির্মাণ করা হবে ? বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে ব্রিজের মাঝে সৃষ্ট তিনটি গর্তের ওপর স্টিলের পাত দিয়ে অস্থায়ীভাবে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া হয়েছে মাত্র। দিনরাত ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজের ওপর দিয়ে যাত্রীবাহী বাস, ঢাকাগামী কোচ ও মালবাহী ট্রাক সহ বিভিন্ন ভারী যান চলাচল করছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতে বেশ কয়েকবার জরিমানা করার পরেও উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঝুঁকি নিয়ে রায়েরহাট ব্রিজ দিয়ে ৫ টনের অধিক কাঠ, রড, সিমেন্ট ও চাল সহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে ট্রাক চলাচল করছে।
জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর রায়েরহাট ব্রিজের রেলিং ভেঙে যাত্রীবাহী বাস খালে পড়ে গিয়ে এক পথচারী সহ ৮জন যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল।বার বার এ নিয়ে পত্রিকায় লেখার পরে ওই দুর্ঘটনার প্রায় ৬ বছর পরে ২০১২ সালে সেই ভাঙা রেলিংটি সংস্কার করা হয়। তবে মূল ব্রিজটি মরণফাঁদে পরিণত হয়ে আছে। দুই প্রান্তে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের সাইন বোর্ড সাটিয়ে ব্রিজ দিয়ে ৫টনের অধিক মালামাল বহনকারী ট্রাক চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কিন্তু প্রতিনিয়ত সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা হচ্ছে। এদিকে দীর্ঘদিন যাবত ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সওজ কর্তৃপক্ষ সংস্কার কিংবা নতুন ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের দাবিতে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে একাধিকবার মানববন্ধনও করা হয়। তবে বরাবরই কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে উদাসীন রয়েছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বরিশাল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফাকে মুঠোফোনে ব্রিজটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি অবহিত করা হলে তিনি প্রশ্ন করেন- 'ব্রিজ আবার বেহাল হয় কিভাবে?' তাকে বেহাল কিনা তা সরেজমিন দেখার কথা বললে জানান- তাহলে সরেজমিন দেখে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/জামান
