কৌশলে ৭ প্রতারক আটক

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১৭, ২১:৫২
 
গাজীপুরে এক পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং আরো টাকার জন্য খুন-জখমের হুমকি দেওয়ায় দুই নারীসহ ৭ প্রতারককে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে কয়েকটি মোবাইল সেট, একটি ক্যামেরা, সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনের কয়েকটি পরিচয়পত্র, মোবাইল সিমকার্ড, অলিখিত চেক ও স্ট্যাম্প পাওয়া যায়। 
 
আটককৃতরা হলেন- লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা থানার বাড়াইপাড়া এলাকার সোলেমান গণির ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলম (২৪), শেরপুর সদরের সন্নাসীচর এলাকার ইসমাইল আলীর ছেলে মো. আইয়ুব আলী (২৮), জামালপুরের মেলান্দহ থানার ঢালুয়া বাড়ি গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মো. এরশাদ আলী (২৮), একই থানার ঝাউপাড়া টোক্কারচর গ্রামের মাসুদ রানার স্ত্রী রত্না বেগম (৪৫), টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি থানার বলিভদ্র গ্রামের মো. শাহজাহান আলীর ছেলে মাসুদ রানা (৩০), বরিশালের গৌরনদী থানার হোসনাবাদ গ্রামের মো. শাহ আলম সরকারের ছেলে মো. শামীম হোসেন (৪৫) ও গাইবান্দার সাঘাটা থানার বোনারপাড়া গ্রামের হামিদুলের মেয়ে রূপা বেগম (২০)।
 
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, একজন পুলিশ সদস্য বুধবার দুপুর ১২টার দিকে মক্কেল সেজে বর্ষা সিনেমা হলের সামনে গেলে সমলা বেগম (৩০) নামের এক নারী কাজিমুদ্দিন স্কুল সড়কের রুপার ভাড়া বাসার তৃতীয় তলায় নিয়ে যান। রুপার সাথে পরিচয়ের ফাঁকে সমলা কেটে পড়েন। 
 
কিছুক্ষণ পর ভাড়াটিয়া পরিচয়ে সেখানে সোহেল নামে একজন এবং জাহাঙ্গীর আলম, শামীম হোসেন, মাসুদ রানাসহ আরো কয়েকজন প্রবেশ করেন। রুপার সাথে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তারা ওই পুলিশ সদস্যকে মারধর এবং উভয়কে উলঙ্গ করে ছবি তুলে পত্রিকায় ছাপানোর হুমকি দেয়। পুলিশ সদস্যের সাথে থাকা ৫ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন তারা। এক পর্যায়ে তারা পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার এবং খুন জখমের ভয় দেখিয়ে লিখিত ও অলিখিত কয়েকটি স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেন এবং আরো ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন। তারা দুইটি বিকাশ নাম্বার দিয়ে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে স্বজনদের কাছ থেকে আরো ৭০ হাজার আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। পুলিশ সদস্য টাকা দেওয়া নাম করে ঘটনাটি কৌশলে পুলিশকে জানান। সন্ধ্যায় ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার এবং ওই ৭জনকে আটক করা হয়। এসময় আরো ৮জন পালিয়ে যান। 
 
তিনি আরো জানান, এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মারধর, খুন-জখম, গ্রেফতার ও পত্রিকায় ছবি ছাপিয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা করে আসছিল। প্রতিদিন কেউ না কেউ তাদের খপ্পড়ে পড়তো। এদের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় মামলা হয়েছে।
 
জয়দেবপুর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতারক চক্রটি টঙ্গী, চান্দনা চৌরাস্তা ও কোনাবাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ রাস্তা থেকে সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ টাকা পয়সা ও মোবাইল সেটসহ মূল্যবান জিনিস লুট করে আসছিল। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যাত্রীরা গাজীপুরের ওইসব এলাকায় বাস থেকে নামলে কৌশলে যাত্রীদের জিম্মি করে তাদের ভাড়া বাসায় নিয়ে আটকিয়ে ফেলতো। পরে তারা ভিকটিমের বাড়িতে ফোন দিয়ে বিকাশের মাধ্যমে টাকা নিয়ে পরে ছেড়ে দিত।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি