বিএনপি প্রার্থীর ফলাফল বর্জন

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৯:০৩

রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফলাফল বর্জনের ঘোষণাা দিয়েছে বিএনপি। বিএনপির রংপুর মহানগর সহ-সভাপতি কাওসার জামান বাবলা রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন শেষ হওয়ার সাড়ে ৫ ঘন্টা পর দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আকস্মিকভাবে এ ঘোষণা দেন।

এর আগে সকালে বাবলা মাহিগঞ্জের দেওয়ানটুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে বলেছিলেন, ভোটের পরিবেশ সন্তোষজনক। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু থাকবে কিনা সে ব্যাপারে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।

নির্বাচনের তফসীল ঘোষণার পর থেকে বাবলা মাঠে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালান। তার পক্ষে দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা রংপুরে এসে শেষ পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যান। কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ফলাফল তার বিপক্ষে যেতে থাকে এবং প্রতিদ্বন্দ্বীতায় তিনি বিশাল ব্যবধানে তৃতীয় স্থানে চলে যান। অবস্থা বেগতিক দেখে দলীয় হাই-কমান্ডের ফোন পেয়ে তিনি তড়িঘড়ি সংবাদ সম্মেলন করে ফলাফল বর্জনের ঘোষণা দেন।

এ ফলাফল বর্জনের ঘোষণার বিষয়টি দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী জানতেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী পেয়েছিলেন ৫ হাজার ৫’শ ভোট। গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী কাওসার জামান বাবলা ২১ হাজার ২৩৫ ভোটে ৪র্থ হয়েছিলেন। তখন তিনি নির্বাচন বর্জন কিংবা ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেননি। আজ অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ভোটে গত ২৬ বছরের বিএনপি’র প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়ার পরেও ফলাফল বর্জনের ঘোষণা দেওয়ায় সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা বিএনপি’র অভ্যন্তরেই চরম তোলপাড় শুরু হয়েছে।

রাতে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাবলা বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। এই সরকারের আমলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আমার বিজয় নিশ্চিত ছিল কিন্তু ষড়যন্ত্র করে আমাকে হারানো হয়েছে। জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ মুদ্রার এপিট-ওপিঠ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিটির বিভিন্ন মহল্লায় আমার যে জনপ্রিয়তা ছিল তা একজোট হয়ে ষড়যন্ত্র করে হারানো হলো।

কী কারণে ফলাফল বর্জন করলেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিটির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বকশিকেন্দ্রে দিনের বেলা সিল-স্বাক্ষরবিহীন ব্যালট পেপার পাওয়া গেছে। এর মানে কি হতে পারে? আমার কর্মী ও তাদের পরিবারের ৬০ হাজারেরও বেশি ভোট রয়েছে। কিন্তু ফলাফলে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ২০১২ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের বাইরে থেকে নির্বাচন করে এর চেয়েও বেশি ভোট পেয়েছি। এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করে যেখানে আরও বেশি ভোট পাওয়ার কথা, সেখানে উল্টােটা হয়ে গেল। এসব কিছুই প্রমাণ করে নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে।

এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রইচ আহমেদ, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু, জেলা ছাত্রদল সভাপতি মনিরুজ্জামান হিজবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/নূহু