পুরোপুরি সুস্থ না হয়েই বাড়ি ফিরলো মুক্তামনি

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৯:২৪
 
বিরল রোগে আক্রান্ত মুক্তামনি বাড়ি ফিরেছে। সুস্থ না হলেও সে বাড়ি যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় চিকিৎসকরা তাকে অনুমতি দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার ভোরে অ্যাম্বুলেন্সে করে মুক্তামনি তার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার সদর উপজেলার দক্ষিণ কামারবাইশা গ্রামে ফিরে গেছেন।
 
মুক্তামনির বাড়ি ফেরা প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, মুক্তামনি বাড়ি যাবার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছিল। তাই ওকে বাড়ি যেতে বলেছি। দুই থেকে তিন সপ্তাহ গ্রামে থাকতে সময় দেওয়া হয়েছে। তার ছয়টি অপারেশন করা হয়েছে। আরো অপারেশন লাগবে। কিন্তু পরিবার ও মুক্তামনি বাড়ি যেতে চাচ্ছে, তাই যেতে দেওয়া। কীভাবে থাকবে মুক্তামনি সেই নির্দেশনা তার স্বজনকে দেওয়া হয়েছে বলে জানান এই চিকিত্সক।
 
মুক্তামনির বাবা ইব্রাহীম হোসেন বলেন, আপনারা সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন। ছয়-সাত মাস হল ঢাকায়, মেয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য খুব কান্নাকাটি করছে। তাই ডাক্তারকে বলে যাওয়ার অনুমতি নিয়েছি। কোনো ধরনের সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে ঢাকায় নিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিত্সকরা।
 
মা আসমা খাতুন বলেন, ওর জন্য ডাক্তারদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি দেখিনি। একমাস পরে আবারও আসবো।
 
মুক্তামনির চিকিত্সার খোঁজ-খবর এবং দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান মুক্তামনির বাবা-মা।
 
যাওয়ার আগে মুক্তামনি বলে, আমার চিকিত্সা করার জন্য ডাক্তারদের ধন্যবাদ জানাই। আমি বাড়িতে গিয়ে ভালো থাকতে চাই। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।
 
রিবল রোগে আক্রান্ত মুক্তামনি এ বছরের ১২ জুলাই ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি হয়। ১২ বছর বয়সি মুক্তামনির হাতে ৫ আগস্ট প্রথম অস্ত্রোপচার হয়। পরে আরো পাঁচটি অস্ত্রোপচার করা হয় তার। ২০ সদস্যের বেশি চিকিত্সকদের একটি দল জটিল এই অস্ত্রোপচারে যুক্ত ছিলেন। ঢামেকের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালামের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ একদল চিকিত্সক মুক্তামনির স্কিন গ্রাফটিং (চামড়া লাগানো) অপারেশনে অংশ নেন। 
 
ইত্তেফাক/আনিসুর