মুরাদনগরে ৫০ প্রাথমিক স্কুলে পরিত্যক্ত ভবন ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ০২:০৮

জেলায় মুরাদনগর উপজেলার ৩০৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় অর্ধশতাধিক বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। এসব ভবন অপসারণ না হওয়ায় বছরের পর বছর পরিত্যক্ত ভবনে ও পাশে নিরুপায় হয়ে ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে বিদ্যালয়গুলোর প্রায় ১২ হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থী। এতে করে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। অর্ধশত বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত হলেও এর কোনো তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে না থাকায় অভিভাবকরা এ বিষয়ে খুব অসন্তুষ্ট।

এছাড়া ভবন, পাকা ভবন নির্মিত না হওয়া, শিক্ষক, টয়লেট ও পানির সংকট, নোংরা পরিবেশসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত ও জরাজীর্ণ হয়ে বেহাল অবস্থায় রয়েছে বিদ্যালয়গুলো। যা দেখার যেন কেউ নেই। কোথাও পরিত্যক্ত ভবনে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম, আবার কোথাও সেই পরিত্যক্ত ভবনগুলো অরক্ষিতভাবে থাকায় সেসব ভবনে শিক্ষার্থীরা করছে খেলাধুলা। এতে করে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা সব সময় থাকছে আতঙ্কের মাঝে।  জরুরিভিত্তিতে সে সকল ভবনগুলো অপসারণের দাবি জানান শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ৩৬টি বিদ্যালয় ভবন পরিত্যক্ত হয়ে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। বিদ্যালয়গুলো হলো- কৃষ্ণপুর, ঘোড়াশাল (উত্তর), কৃষ্ণপুর (দক্ষিণ), রামপুর (দক্ষিণ), কুড়ারপাড়, সোনারামপুর, কাজিয়াতল (উত্তর), কাজিয়াতল (দক্ষিণ), খাপুড়া, হিরাকাশী, রাজাবাড়ী, হায়দরাবাদ, ইসলামপুর, বল্লভদী, সাতমোড়া, জানঘর, বৃষ্ণপুর, পূর্বধৈইর, কামাল্লা (পশ্চিম), সাহেবনগর, বড়ইয়াকুড়ি, নরসিংহপুর, গাংগাটিয়া, রহিমপুর, নবীপুর, রামপুর উত্তর, হারপাকনা, মোকলেশপুর, কামারচর, দেওড়া দক্ষিণ, ফুলঘর, গনিপুর, করিমপুর, পূর্ব জাঙ্গাল, পাহাড়পুর উত্তর ও জাঙ্গাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এএনএম মাহবুব আলম পরিত্যক্ত ভবনের কোনো তালিকা না থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, উপজেলায় প্রায় ৫০টি ভবন পরিত্যক্ত রয়েছে। যে প্রতিষ্ঠান আমাদের লিখিতভাবে জানিয়েছে তা আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করেছি। তিনি আরও বলেন, ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা উপজেলা প্রকৌশলীর দায়িত্ব।

ইত্তেফাক/নূহু