তালায় রাস্তার পাশে লাউ চাষে কৃষকের সফলতা

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৯:৪৭
 
রাস্তার পাশে লাউ চাষ করে সাফল্য এসেছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তেরছি গ্রামর সৌখিন কৃষকদের। প্রথমে শখের বসে লাউয়ের আবাদ করলেও এখন রীতিমত বাণিজ্যিকভাবে আবাদ করছেন তারা। তেরছি গ্রামের মাঠে প্রায় ৩শ ফুট রাস্তার ধারে বেড়া দিয়ে গড়ে ওঠা লাউয়ের মাচা তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে রাখার পাশাপাশি নজর কাড়ছে পথচারীদের। তাদের দেখে এলাকার অনেকে এখন সাদা জমিতেও আবাদ করছেন লাউয়ের। 
 
তেরছি বাজার থেকে মদনপুর মহাসড়ক অভিমুখী প্রায় ২শ’ ফুট রাস্তার দু’পাশে গড়ে উঠা পৌষি লাউয়ের মাচা ঐ এলাকার সৌখিন চাষীদের পথ দেখিয়েছে। ফেলে রাখা জমিতে মৌসুমী সবজি চাষে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন তারা। অগ্রহায়ণ মাসের মাঝামাঝি সময়ে চারা রোপন করেন এখানকার কৃষকরা। এতে করে বাজারে তাদের লাউ আগাম আসে। উৎপাদনও নজর কাড়া, দামও ভালো। এখন পর্যন্ত বাজারে পর্যাপ্ত লাউ না উঠলেও তাদের উৎপাদিত লাউ বাজার সয়লাব। প্রতিটি লাউ ২০/২৫ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করছেন তারা। রাস্তার পাশে যার যার জমির মাথা, তার তার আবাদ এনিয়ে কারো সাথে কারো গোলযোগও নেই। এ যেন বিকল্প পদ্ধতিতে পতিত জমিতে কৃষি বিপ্লবের এক নতুন সূচনা। প্রতিদিন রাস্তা দিয়ে শত শত পথচারীদের নজর কাড়ে লাউয়ের আবাদে।
 
চাষীদের মধ্যে মো. আজগর মোল্যা জানান, লাউ আবাদে শত শত মানুষের নজর কাড়লেও স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের এখনও দৃষ্টিগোচর হয়নি। এখনও পর্যন্ত কোনো পরামর্শ পায়নি তারা।  নিজেদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই তাদের বৈপ্লবিক চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি। তিনি আরো জানান, প্রথমত নিতান্তই শখের বসে রাস্তার পাশে বাঁশের কঞ্চি বা গাছের ডাল পুঁতে বেড়া দিয়েই শুরু করেছিলেন লাউয়ের চারা রোপন। অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয় এই গাছ। পোকা-মাকড়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে সপ্তাহে একদিন কীটনাশক ও ওন্ডার স্প্রে করেন। আর এতেই পোকার আক্রমণের হাত থেকে রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় গবাদি পশুর হাত থেকেও রক্ষা মেলে। সবচেয়ে বড় কথা লাউয়ের এই পরিকল্পিত আবাদে তাদের কোনো বাড়তি শ্রমিক নিয়োগ করতে হয় না। নিজেরাই নিজেদের ক্ষেতের শ্রমিক। 
 
সব মিলিয়ে ভালো আছেন তেতুঁলিয়া ইউনিয়নের এই সৌখিন লাউ চাষীরা। তারা এখন এলাকার মডেল চাষী।  তারা মনে করেন, সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা পেলে পরিকল্পিত প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কৃষিকে নিয়ে যেতে পারেতন অনন্য উচ্চতায়। এগিয়ে যাক পতিত জমির সবজি আবাদ, ত্বরান্বিত হোক তাদের অগ্রযাত্রা, চোখ খুলুক সংশ্লিষ্টদের এ প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
 
ইত্তেফাক/কেকে