বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও আধুনিকতায় দৈনিক ইত্তেফাক এখনো সবার শীর্ষে। দেশের আপামর পাঠক সমাজ ইত্তেফাককে তাদের সর্বোচ্চ আস্থার মধ্যে রেখেছে। গণমানুষের আশা আকাঙক্ষা, প্রত্যাশা, উন্নয়নসহ সামগ্রিক জীবনের তথ্যের সঠিক প্রকশানার মধ্য দিয়ে এই সংবাদপত্র দেশ তথা জাতির জন্য নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রাম, স্বাধীকার আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধে প্রাক্কালে এদেশের মানুষের কাছে সংগ্রামের সঠিক বার্তা পৌঁছে দিয়ে একদিনে ইত্তেফাক যেমনি দেশের স্বাধীনতা অর্জনে অবদান রেখেছে, অন্যদিকে এই সংবাদপত্র স্বাধীনতা বিরোধী চক্র এবং দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর রোষানলে পতিত হয়েছে। দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এবং মানুষের অধিকার আদায়ের সকল সংগ্রামের দলিল ইত্তেফাক সকল সময় নিষ্ঠা ও সততার সাথে তুলে ধরেছে। দেশে সঠিক সাংবাদিকতা বলতে যা বোঝায় তার শিক্ষাদাতা এই সংবাদপত্র। এরই মধ্যে দিয়ে ইত্তেফাক একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা তফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া যে আদর্শ রেখে গেছেন ইত্তেফাক তা সমুন্নত রেখেছে।
রবিবার দৈনিক ইত্তেফাকের চট্টগ্রাম অফিসে ৬৫তম বর্ষপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম অফিসে কেক কেটে জন্মদিন অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর দিনব্যাপী নগরীর সুধীজন, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যাক্তিত্ব, ক্রীড়া সংগঠন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সুধীজন ইত্তেফাকের ৬৫ বছর পদার্পণে শুভেচ্ছা ও উত্তোরোত্তর অগ্রগতি কামনা করে ফুল উপহার দেন। এ সময় ইত্তেফাকের সার্বিক কল্যাণ ও উত্তোরত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন ইসলাম ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা এম এ মতিন। অনুষ্ঠানের আগত অতিথি এবং সুধীবৃন্দকে অভ্যর্থনা জানান চট্টগ্রাম অফিসের ব্যুরো প্রধান সালাহউদ্দিন মো. রেজা ও অন্যান্য সহকর্মীরা।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট লেখিকা শহীদজায়া ও জননী বেগম মুশতারি শফি বলেন, ইত্তেফাক ঐতিহ্য সমকাল এবং বর্তমান আধুনিকতাকে অভূতপূর্ব দক্ষতায় ধারণ করেছে। সমাজে তথ্য প্রকাশে ইত্তেফাকের বস্তুনিষ্ঠতা জীবনঘনিষ্ঠতা সব সময়ই অতুলনীয়।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ইত্তেফাক সাংবাদিকতা কাকে বলে তা শিখিয়েছে। যখন সমাজ জীবনে মিথ্যাচার, অনৈতিকতা প্রবল হয়ে উঠে সঠিক সাংবাদিকতার মাধ্যমে ইত্তেফাক তখন মানুষের সামনে সত্যের আলোকশিখা তুলে ধরে।
সংসদ সদস্য এম এ লতিফ বলেন, দীর্ঘ সময় একটানা সংবাদপত্র প্রকাশনা ইত্তেফাক ন্যায় নিষ্ঠা এবং গণমুখীতা বজায় রেখেছে। সামনের দিনগুলোতেও ইত্তেফাক এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল বলেন, সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে এদেশের মুক্তিকামী মানুষ ইত্তেফাক থেকে প্রেরণা নিয়েছে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ইত্তেফাক তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি।
চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতায় ইত্তেফাক একটি আদর্শিক সংবাদপত্র। ইত্তেফাকের সংবাদ পরিবেশনায় কোনো ধরণের পক্ষপাত থাকে না। ইত্তেফাক অতিরঞ্জিত ও খণ্ডিত তথ্যেও বিপরীতে সামগ্রিক তথ্য উপস্থাপন করে গণমানুষের আস্থা অর্জন করেছে।
সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মানুষ যখন দিশেহারা হয়ে পড়ে তখন তারা ইত্তেফাকের পৃষ্ঠায় চোখ বুলিয়ে পথের দিশা খুঁজে নেয়। ইত্তেফাক সব সময় সাধারণ মানুষের মনের কথাই তুলে ধরে।
বিএনপি নেতা ও ক্লিফটন গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রফেসর এমডিএম কামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দৈনিক সংবাদপত্র হিসেবে ইত্তেফাক সকল সময় সুধী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি জনপ্রিয় সংবাদপত্র।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়শা খান, চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন বক্কর, আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, রূপালী ব্যাংকের পরিচালক সাংবাদিক আবু সুফিয়ান। এছাড়াও অন্যদের মধ্যে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি কলিম সরোয়ার, প্রেসক্লাব সহ-সভাপতি মনজুর কাদের, সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শহিদুল্লাহ শাহরিয়ার, ক্রীড়া সম্পাদক নজরুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিন্টু চৌধুরী, আপ্যায়ন সম্পাদক রোখসারুল ইসলাম, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির সভাপতি স্বপন মল্লিক, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান মকছুদ, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল লতিফ টিপু, কাউন্সিলর আনজুমান আরা বেগম, নগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ।
এছাড়াও নয়া বাংলার সম্পাদক জিয়াউদ্দিন মোহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ, সিইউজের সাবেক সভাপতি মোসতাক আহমেদ, সিনিয়র সাংবাদিক মইনুদ্দিন কাদেরী শওকত, আতিকুর রহমান, ডেইজি মওদুদ, আবু তাহের মোহাম্মদ, আবুল হাসনাত, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন চট্টগ্রামের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, চট্টগ্রাম ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মাহমুদ, সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, জাহিদুল করিম কচি, সাংবাদিক মহসিন চৌধুরী, চৌধুরী ফরিদ, কামাল পারভেজ, কাশেম মাহমুদ, রুবেল খান, রফিকুল ইসলাম সেলিম, আবু মোশাররফ রাসেল, নগর বিএনপি নেতা ইদ্রিস আলী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য জাহিদুর রহমান সোহেল, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা জাইদ বিন কাশিম, চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান রুমি, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রণি, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল আফসার জুয়েল, সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম জনি, যুগ্ম সম্পাদক তোকিবুল হাসান তকি, ছাত্রদল নেতা সরোয়ার হোসেন রুবেল, মো. ফরহাদ হোসেন, নুরুল কবির তালুকদার, অহিদুল ইসলাম টিটু, ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি দিদার কাদেরী, বিজিএমইএ পরিচালক আমজাদ হোসেন, সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর কারিকা সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, এমইএস কলেজ ছাত্রলীগ নেতা শহীদুল ইসলাম, মানজারুল ইসলাম রিমু, আশরাফ ইনু, ফখরুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা কলিমুল্লাহ, কামরুল হাসান রাসেল, তানবির হাসান জনি, নোমান চৌধুরী রাকিন, মোহাম্মদ মুন্না, নুরুন্নবী শওকত, মহানগর যুবদল নেতা ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, যুবলীগ নেতা সন্তোষ কুমার নন্দী, চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক পরিষদের নেতা শহীদ ফারুকী, জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সংগঠন পিয়াল আকতার সেলিম, দিলরুবা খানম ছুটি, বিএনপি নেতা নাজমুল মোস্তফা আমিন, ইউনিভার্সেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান সাজু, ব্র্যান্ডরোড সিইও নুরশাদুল হক, স্বাদ সুইটসের স্বত্তাধিকারী কামাল উদ্দিন, সিটিজেন মুভমেন্ট (নাগরিক আন্দোলন) বাংলাদেশের আহ্বায়ক অধ্যাপক শাহ আলম, শ্রমিক নেতা আবদুছ সাত্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি
