‘যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলছে সে রকম চাই না’

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ২৩:১৫

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের উদ্যোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইদিন ব্যাপী ‘কেমন বিশ্ববিদ্যালয় চাই: উচ্চশিক্ষা, নীতিমালা, কাঠামো’ শীর্ষক সম্মেলন শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের গ্যালারিতে এ সম্মেলন শুরু হয়। দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের প্রথম দিনে দুইটি অধিবেশন ও তিনটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম অধিবেশনে ‘বিশ্ববিদ্যালয়, সমাজ ও রাষ্ট্র’  এবং দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন: কৌশলপত্র’ বিষয়ের উপর আলোচনা করা হয়। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন, অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান, অধ্যাপক এ কে এম শাহনেওয়াজ, অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা প্রমুখ।

সম্মেলনে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুত্-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন, ‘কেমন বিশ্ববিদ্যালয় চাই? এর উত্তর হলো বর্তমানে যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলছে সে রকম বিশ্ববিদ্যালয় আমরা চাই না। বাংলাদেশে অনেক ক্যাটাগরির বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ঢাবি, জাবি, চবি, রাবি ১৯৭৩-এর অধ্যাদেশ দ্বারা পরিচালিত হয়। এটা শুধু অধ্যাদেশ নয়, এটা একটা ইতিহাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যখন চিন্তা করার সক্ষমতা, প্রশ্ন করার আগ্রহ, সমাজ ও রাষ্ট্র বিষয়ে মনযোগ বৃদ্ধি পাবে তখন স্বৈরতন্ত্র, নিপীড়ক, রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রভুদের জন্য তা হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সরব থাকতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘জেনারেল আয়ুব খানের শাসনামলে আমরা উন্নয়ন দশক দেখেছি। তার উন্নয়ন দশকের সঙ্গে বর্তমান উন্নয়ন দশকের যথেষ্ট মিল আছে। এ ধরনের শাসকরা মানুষকে যেমন ভয় পায় তার চেয়ে বেশি ভয় পায় বিশ্ববিদ্যালয়কে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ন্ত্রণ করতে যত রকম পদ্ধতি আছে তা প্রয়োগ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ যেন প্রতিবাদ করতে না পারে এজন্য সরকার পুতুল তৈরির একটা প্রকল্প নিয়েছে। রাষ্ট্র চায় রোবট সোফিয়ার মতো শিক্ষার্থী। তাদেরকে যেভাবে বলা হবে ঠিক সেভাবে চলবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করে অনুগত করা হয়।

পরে ‘১৯৭৩-এর অধ্যাদেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসন’, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে: প্রাইভেট ও ‘সরকারি’ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা’ ও ‘নিওলিবারেল রূপান্তরে বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক তিনটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালা শেষে বিকেল ৫টায় প্লেনারি অধিবেশন শুরু হয়। এতে অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন, অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হকসহ দেশের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক শিক্ষক অংশ নেন।

আজ শুক্রবার সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে দুইটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় ‘পাঠদান ও গবেষণা’ শীর্ষক ও দুপুর ১২টায় ‘ভর্তি, নিয়োগ ও প্রশাসন’ শীর্ষক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।