কলকাকলিতে মুখর জাবি, ১৯ জানুয়ারি পাখি মেলা

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ২২:০২
 
প্রতি বছরের মতো এবারো ঝাঁকে ঝাঁকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এসেছে পরিযায়ী পাখি। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে পাখির সংখ্যাও। লাল শাপলার মাঝে পাখিদের খুনসুটি প্রতিদিন মুগ্ধ করছে দর্শনার্থীদের। প্রতিবছর নিরাপদ আবাসস্থল ও খাদ্যের সন্ধানে পাখিদের আগমন ঘটে এ ক্যাম্পাসে। মূলত অক্টোবর মাসের শেষের দিকে এখানে পাখি আসে। আর ফেব্রুয়ারির শেষ ও মার্চের প্রথম দিকে আবার ফিরে যায় তারা। 
IMG0
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে থেকে জাবিতে পরিযায়ী পাখি আসতে শুরু করে। এ সময় ৯০ প্রজাতির পাখি দেখা যায় এ ক্যাম্পাসে। দুই ধরনের পাখির আগমন ঘটে এখানে। এক ধরনের পাখি ডাঙায় বা শুকনো স্থানে বা ডালে বসে বিশ্রাম নেয়। আরেক ধরনের পাখি পানিতে থাকে। এদের বেশির ভাগই হাঁস জাতীয়। এখানে পাখিদের মধ্যে ৯৮ শতাংশ ছোট সরালি। আর বাকি ২ শতাংশ অন্য প্রজাতির। এদের মধ্যে রয়েছে ল্যাঞ্জা হাঁস, খুন্তে হাঁস, ভূতি হাঁস ও ঝুঁটি হাঁস ইত্যাদি। 
 
এবার ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের সামনের লেক, জাহানারা ইমাম ও প্রীতিলতা হল সংলগ্ন লেক ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশে ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের লেক অধিকাংশ পাখি এসেছে। 
IMG1
প্রতিবারের মতো এবারো পাখি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আগামী ১৯ জানুয়ারি পাখি মেলার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান পাখি মেলার আহ্বায়ক অধ্যাপক কামরুল হাসান। এদিকে অতিরিক্ত দর্শনার্থীদের কারণে পাখিদের ডিস্টার্ব না করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে যে পারিমান সাইনবোর্ড লাগানো দরকার তা দর্শনার্থী আসার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। 
 
প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি লেকগুলোকে পাখির জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলা হয় তাহলে আরো অনেক পাখি আসবে এখানে। এছাড়া দর্শনার্থীদের পাখিদের বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি