গ্যাস সংকটে নাকাল নারায়গঞ্জবাসী

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ২২:২৮

নারায়ণগঞ্জের শহর ও শহতলীর বিভিন্ন এলকায় গ্যাস সংকট চরমে। কোন এলাকায় নিয়মিত সময় করে গ্যাস কিছুক্ষণ থেকে চলে যায় বলে নগরবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তবে গ্যাস সংকট নিয়ে বিভিন্ন সময় আন্দোলন করে সড়ক অবরোধ করলেও কোন সুফল আসেনি বলে অভিযোগও রয়েছে।

এদিকে বৈধ গ্যাস সংযোগ না পেয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগের পরিমাণ বৃদ্ধিতে গ্যাস সংকট আরো তীব্রতর হচ্ছে। সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন স্থানে তীব্র গ্যাস সংকটের নানা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে এই গ্যাস সংকটে কোন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে জনসাধারণ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, শহর ও শহরতলীর কোন এলাকায় সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। এরপর সন্ধ্যার পর থেকে গ্যাস থাকলেও এর পরিমাণ খুবই কম থাকে। রাতেও গ্যাসের পরিমাণ অনেকটা কমে আসে। তবে অধিকাংশ এলাকায় দুপুর ব্যতীত সকাল বিকেল দু বেলা গ্যাস থাকে না। এরপর সন্ধ্যা থেকে গ্যাস আবার ফিলে এলেও তার পরিমাণ অনেকটা কম থাকে। তারপর রাত হতেই গ্যাস চলে যায়। এভাবে গ্যাস নিয়ে তীব্র বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় জনসাধারণকে। তবে রাতের বেলা গ্যাস থাকে বলে অনেক গৃহিনী রাত জেগে রান্না করে থাকে। এভাবে জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

১নং ও ২নং বাবুরাইল এলকায় সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গ্যাস থাকে না বলে এলকাবাসী অভিযোগ করেছে। পাগলা এলাকায় সকাল ৭টা থেকে রাত ৪টা পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। ফতুল্লার ফালপুর এলাকায় অধিকাংশ সময় সকাল সাড়ে ৬ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত থাকে না। তবে তারপর গ্যাস থাকলেও তার পরিমাণ কমে যায়।

এছাড়া নতুন কোর্ট, ফতুল্লা স্টেডিয়ামের পাশে, নতুন পালপাড়া, কাশীপুর, ভূইগড়, জামতলা ধোপাপট্টি, আমলাপাড়া, দোওভোগ মাদ্রাসা এলাকা, ফতুল্লার নরসিংপুর, সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি, গোগনগর, মাসদাইর, সর্দার পাড়া, তল্লা বড় মসজিদ, পাইকপাড়া, ভোলাইল, জল্লার পাড়া, পাক্কা রোড, রঘুনাথপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য অভিযেগ রয়েছে গ্যাস নিয়ে।

ভুক্তভোগী এলকাবাসী জানায়, ‘আমাদের দেশের মত এমন আজগুবি নিয়ম কোন দেশে দেখিনি। গ্যাস না থাকলেও গ্যাস বিল কিন্তু মাসে মাসে ঠিকই নিচ্ছে। আবার প্রতি বছর বছর গ্যাস বিল বাড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু গ্যাস কই? গ্যাস নেই অথচ গ্যাস বিল ঠিকই আদায় করছে। এসব দেখে মনে হচ্ছে আমরা মগের মুল্লুকে বসবাস করছি।

রঘুনাথপুর এলাকার পরিতোষ মন্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এক বছর ধরে গ্যাস সংকটে ভুগতে হচ্ছে। কিন্তু কোন সমাধান নেই। তাই কিছুদিন আগে মহাসড়ক অবরোধ করলাম কোন সুফল পাইনি। অথচ মাসে মাসে বিল দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু চুলোয় গ্যাস নেই। এভাবে আর কতদিন কষ্ট করতে হবে ?

১ নং বাবুরাইল এলাকার তাসলিমা আক্তার বলেন, ‘সকাল ৫ টা থেকে দুপুর ৩ টা পর্যন্ত থাকে না। আবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। তাই অনেক সময় মাঝ রাতে জেগে জেগে রান্না করতে হয়। আর দিনের বেলায় ঘুমাতে হয়।

এভাবে বিভিন্ন এলাকাতে গ্যাস সংকটের কারণে অনেকে ভীষণ দুর্ভোগ পোহচ্ছেন। আর উপায় না পেয়ে অনেকে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে মাটির চুলো কিংবা স্টোভ দিয়ে রান্নার কাজ করছে।

অন্যদিকে গ্যাসের বৈধ সংযোগ দেয়া হয়না বলে জেলার বিভিন্ন এলকাতে অবৈধ সংযোগ দেয়া হচ্ছে। এতে করে গ্যাস সংকট ধীরে ধীরে আরো তীব্র হচ্ছে। দফায় দফায় মোবাইল কোর্টের হানা সত্ত্বেও অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়া বন্ধ হচ্ছে না। এ নিয়ে স্থায়ী কোন সমাধানে আসতে পারছেনা বলে ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

দেওভোগ এলাকার ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিগত অনেক বছর ধরেই গ্যাস সংকটে আমরা ভুগছি। এমপি-মেয়র সবাই আছে তবুও এই সংকট থেকে মুক্তি পাচ্ছি না। এ নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নেই। সবাই যার যার মত রয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলে শুধু গ্যাস বিল বাড়ায় কিন্তু কেউ আমাদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে না। গ্যাস নাই তবু গ্যাস বিল নিচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক কার্যালয়ের এক  কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে শীতকাল তাই এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমরা সংকট নিরসনের চেষ্টা করছি।

ইত্তেফাক/নূহু