বেতাগীর বাসন্ডা সরকারি প্রাথমিক স্কুল ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৯:২০


বরগুনার বেতাগী উপজেলার বাসন্ডা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি যে কোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে  যে কোনো সময় জগন্নাথ হল ট্রাজেডির মত ঘটনা ঘটতে পারে। এতে ৭ জন শিক্ষিকা,  ১২০ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে বর্তমানে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা গেছে, স্বাভাবিক বাতাসেও ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কায় দ্বিতীয় তলা থেকে শিক্ষার্থীদের নিচে নামিয়ে আনতে হয়। ঝড়-বন্যা হলে তো কথাই নেই। ঝুঁকির কারণে শিক্ষিকা-শিক্ষার্থীদের ক্লাস ছেড়ে দিতে হয়। অভিভাবকরাও সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চান না। এ কারণে দিন দিন স্কুলের শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। তবুও ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়নি। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটতে পারে এ আশঙ্কায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকরা তাদের দায় এড়াতে বেতাগী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন।

১৯৫৭ সালে বেতাগী পৌর এলাকায় ১৮ শতাংশ জমির উপর ৩ নং ওয়ার্ডে ২৫ নং বাসন্ডা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর ২০০১ সালে ৪ কক্ষ বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের কিছু দিন যেতে না যেতেই ১৬ বছর ধরে ভবনটির করুণ দশা। ২০০৭ সালে সিডরেও বিদ্যালয় ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই সময় ভবনের নিচের অংশে চারটি বাড়তি পিলার দিয়ে কোনোমতে ভবনটি  ধরে রাখা হয়।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির সম্মুখভাগ দেখে বোঝার উপায় নেই  কিন্তু ভেতরে ভয়াবহ অবস্থা। ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। সিঁড়ি বেয়ে উঠতে-নামতে সম্পূর্ণ ভবনটি দোলনার মত নড়া-চড়া করে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চললেও যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারপরেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই এখানে পাঠদান করতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতি বেগম বলেন, ভবন ভেঙে মাথার ওপর পড়তে পারে, শিক্ষার্থীরা সারাক্ষণ এমন আতঙ্কে ভোগেন।

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, এরকম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়ও কারো মাথাব্যথা নেই। এটি ধসে জগন্নাথ হলের ন্যায় হতে পারে। একাধিক অভিভাবক জানান, ঝুঁকির কারণে স্কুলে পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না তারা।

 বাসন্ডা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা: সাঈদা পারভীন জানান, সার্বক্ষণিক আতঙ্কের মধ্যে কাটাতে হয়। তাই দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা দায়ী নয় এ মর্মে থানায় একটি জিডি করেছি। দীর্ঘদিন ধরে নাজুক পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা পরিদর্শন করলেও এখনো ভবন নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেই। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও বরগুনা জেলা পরিষদের সদস্য আবুল কাশেম অচিরেই নতুন করে স্কুল ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অন্য কোথাও ক্লাস নেওয়া যাচ্ছে না। ভবনটির বিপর্যয় হওয়ার আশঙ্কায় আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট তালিকা পাঠিয়েছি। আমরাও চাই যত দ্রুত সম্ভব নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করা হোক।

ইত্তেফাক/নূহু