দেশের বিভিন্ন খাতে কর্মরত শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ১৬ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। সেই সঙ্গে শ্রমিক পরিবারের জন্য ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য সরবরাহ, ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে হয়রানি বন্ধ করা, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকাসহ (ইপিজেড) সব খাতের শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য দূর করা, তিন বছর পর পর নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়নসহ ১৬ দফা দাবি জানিয়েছেন তারা।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর তোপখানা রোডে বিএমএ ভবনে বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের (বিএসএসএফ) কাউন্সিল অধিবেশনে বক্তারা এ দাবি জানান। ফেডারেশনের সভাপতি মোসাদেক হোসেন স্বপনের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল। এ সময় ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ১৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এ দাবিনামা ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও শ্রম মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে।
ফেডারেশনের দাবি অনুযায়ী, বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের জীবনধারণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হারে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। সংগঠনের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে দরিদ্র শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষার উদ্দেশ্যে শ্রম সংশ্লিষ্ট মামলা সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করা, দুর্ঘটনাজনিত কারণে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ এক সপ্তাহের মধ্যে পরিশোধে আইন প্রণয়ন করা, মূল শহর থেকে দূরে গার্মেন্টস শিল্প পল্লী স্থাপন ও সেখানে আবাসনের ব্যবস্থা রাখা, প্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের ন্যায় অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত অর্থাৎ কৃষি, নির্মাণ শ্রমিক, গৃহকর্মী, মৎস্য ও তাঁতি ইত্যাদি খাতের শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার দেওয়া; বন্ধ শিল্প চালু করা, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) শ্রমিক অধিকার সংক্রান্ত কনভেনশন বাস্তবায়ন করা অন্যতম।
কাউন্সিলে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিল্স) চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সিরাজ, লেবার ফেডারেশনের সভাপতি শাহ মো. আবু জাফর, জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, মুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম, জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক নাইমুল হাসান জুয়েল প্রমুখ।
ইত্তেফাক/এমআর
