আখাউড়া স্থলবন্দরে বেড়েছে যাত্রী পারাপার

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৩:১৯
 
ভারতের সেভেন সিস্টার্সের অন্যতম প্রবেশদ্বার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর। ভৌগলিক কারণে ভারতের এ অংশ এতদিন বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রফতানির জন্য বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এ কারণেই গড়ে ওঠে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আখাউড়া স্থলবন্দর।
 
ভারতের ৭টি প্রদেশ অরুণাচল, মেঘালয়, আসাম, মনিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড জাতিগত, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের কারণে একত্রে সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত। গত বছর আগরতলার সঙ্গে অন্যান্য রাজ্যের রেল যোগাযোগ শুরু হওয়ার পর থেকে কমে গেছে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে কিছু পণ্যের রফতানি। ফলে অনেকটাই স্থবির এ বন্দর।
 
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত তিন বছরে এ বন্দর দিয়ে পারাপার হয়েছেন প্রায় আড়াই লাখ যাত্রী। তবে যাত্রী পারাপারে প্রধান সমস্যা ছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ভ্রমণ কর পরিশোধ। ভ্রমণ করের টাকাসহ নানা ভোগান্তি পোহাতে হতো যাত্রীদের। তাই যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে সম্প্রতি ৩৬৫ দিন বন্দরে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এখন থেকে যাত্রীরা শুক্র ও শনিবার বন্ধ ছাড়াও সরকারি যেকোনো বন্ধের দিন ভ্রমণ কর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন।
 
ভ্রমণ করের বিষয়ে কথা হয় সুব্রত রায় নামে এক যাত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, 'এই স্থলবন্দরে ৩৬৫ দিন ব্যাংক বুথ চালু থাকায় আমরা যেকোন সময় ভারতে যেতে পারব। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে যেতে এ বন্দর ব্যবহার করলে সময়ও কম লাগে, খরচও কম হয়।'
 
অপর যাত্রী শফিকুর রহমান বলেন, 'আগের তুলনায় বর্তমানে এ সীমান্তপথ দিয়ে যাত্রীদের যোগাযোগ বেড়ে গেছে। আগে শুক্র ও শনিবার বন্ধ ছাড়া ও সরকারি বন্ধগুলোতে আমাদের ভ্রমণ কর দিতে সমস্যা হতো। ৫শ' টাকা কর ছাড়াও অতিরিক্ত টাকা দিয়ে আগরতলা যেতে হতো। এখন থেকে সবদিন সোনালি ব্যাংকের বুথ চালু থাকায় আর কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না।'
 
ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আজিজুল হক বলেন, 'সব ব্যবসায়ীদের দাবি এ বন্দরকে পূর্ণাঙ্গ বন্দর হিসেবে স্থাপন করতে হবে। বন্দরে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা করে দিতে হবে। যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের দিক বিবেচনা করতে হবে।'
 
ইত্তেফাক/জামান