খাদ্য সংকটে ধামরাইয়ের বানর

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৩:৪৬
 
নানা ঐতিহ্যে মণ্ডিত ঢাকার ধামরাই উপজেলা। এখানকার তামা ও কাঁসা শিল্পসহ মসলিন, মৃৎশিল্প, রথের মেলার পরিচিতি বিশ্বব্যাপী। কবি কামিনী রায়ের শ্বশুরালয়, ড. দীনেশ চন্দ্র সেনের জন্মভূমি ধামরাই উপজেলা। এছাড়াও সাইট্ট্যার বটবৃক্ষ, সাহাবেলীশ্বরের শ্রী পঞ্চমী মেলা, চৌহাটের অষ্টমী স্নানের মেলা, বাইশা কান্দার ভক্তের মেলা এমন আরো কত কি!
 
এবারের আলোকপাত 'বানর' নিয়ে। ধামরাইয়ের জৈববৈচিত্রে বানরের ইতিহাস যুগ থেকে যুগান্তরের। ওরা ঘুরে বেড়ায় মুক্ত মনে। কখনো একাকী, কখনো দলবেঁধে-যেন কোথাও ওদের হারিয়ে যেতে নেই মানা। ওরা সঙ্ঘবদ্ধ, ওদের মাঝে মায়া-মমতাও অনেক বেশি। সবাই একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিপদে-আপদে। চুপচাপ বসে থাকে ফটক, দেয়াল, মগডাল ও ঘরের চালায়। অহেতুক বিরক্ত করে না। কিন্তু খেপালে নিস্তার নেই। নিমিষে দলে-বেধে চলে আসে হামলা চালাতে।
 
বন্য হলেও পোষা প্রাণীর মতো ওদের আচরণ। খুশি হয় খাবার পেলে। চীনাবাদাম, কলা, রুটি, পেয়ারা, বিস্কুট ওদের প্রিয় খাবার। মানুষের হাত থেকে মুখে কিংবা হাতে তুলে খাবার নেয় ওরা। মজাও করে বেশ। কখনো ভেঙচি কাটে, তাকায় ভয়ঙ্কর দৃষ্টিতে। বাচ্চা বুকে নিয়ে অবাধে চলাফেরা করে মা বানরগুলো। চমৎকার দৃশ্য এটি।
 
নানা প্রতিকূলতার কারণে ধামরাইয়ের বানরগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। ঝোপঝাড়, গাছপালা সাবাড় করে দালান-কোঠা নির্মাণ করায় বানরগুলোর নিরাপদ আবাস ও প্রাকৃতিক খাবারের উৎস ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। খাদ্যের সন্ধানে প্রায়ই শহর ছেড়ে বেরিয়ে আসে আশেপাশের এলাকায়। ক্ষুধার তাড়নায় রান্নাঘর, দোকান এমনকি মানুষের হাত থেকে খাবার ছিনিয়ে নেয় ওরা।
 
ধামরাইয়ের জৈববৈচিত্র রক্ষায় বানরগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন বলে মনে করে ধামরাইবাসী। ওদের জন্য প্রয়োজন নিরাপদ আবাস এবং প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎস। ওদের জন্য খাবার সরবরাহ, হরেক রকম ফলের গাছ লাগিয়ে প্রাকৃতিক খাবারের উৎস ও অভয়ারণ্য সৃষ্টির মাধ্যমে বানরগুলোর বিলুপ্তি ঠেকানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
 
ইত্তেফাক/জামান