রাজধানীর কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের ঘটনায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ১০ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। গতকাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজমের পরিদর্শক মোহাম্মাদ জাহাঙ্গীর আলম ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। নিয়মানুযায়ী আগামী সোমবার ওই চার্জশিট আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলো- রাকিকুল হাসান রিগ্যান (২১), সালাহ্ উদ্দিন কামরান (৩০), আব্দুর রউফ প্রধান (৬৩), আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র্যাশ (২০), শরীফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ওরফে সোলায়মান (২৫), মামুনুর রশিদ রিপন ওরফে মামুন (৩০), আজাদুল কবিরাজ ওরফে হার্টবিট (২৮), মুফতি মাওলানা আবুল কাশেম ওরফে বড় হুজুর(৬০), আব্দুস সবুর খান হাসান ওরফে সোহেল মাহফুজ ওরফে নাসরুল্লা হক ওরফে মুসাফির ওরফে জয় ওরফে কুলমেন (৩৩) ও হাদিসুর রহমান সাগর (৪০)। চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে শরীফুল ইসলাম খালেদ, মামুনুর রশিদ রিপন ওরফে মামুন ও আজাদুর কবিরাজ এখনো পলাতক রয়েছে। বাকির গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। এছাড়া ওই আস্তানায় রাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাসী পরিকল্পনা করলেও ঘটনার সময় নিহত ৯ জন ও নারায়ণগঞ্জে নিহত তামিম চৌধুরী ও আশুলিয়ায় নিহত সরোয়ার জাহানকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
চার্জশিটে বলা হয়, কল্যাণপুরের আস্তানায় অবস্থানকারী ও যাতায়াতকারীরা নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামআতুল বাংলাদেশের ( জেএমবি) নেতৃেত্বের উগ্র অংশ। তারা দেশে খেলাফত বা কথিত শারিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে নিজেদের নব্য জেএমবি পরিচয় দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে সন্ত্রাসী হামলা চালায়। তারা পরস্পর যোগসাজশে কূটনৈতিক এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালিয়ে সেখানে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি নাগরিকদের আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো ছুরির আঘাতে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এই সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে আসামিরা বাংলাদেশের সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন ও বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
মামলা সুত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় পাল্টা অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। অপারেশন স্টর্ম-২৬ নামের পুলিশের ওই অভিযানে ৯ জঙ্গি নিহত হয়। রাকিবুল হাসান রিগ্যান নামে একজনকে গ্রেফতার করলেও ঘটনাস্থল থেকে একজন পালিয়ে যায়। কল্যাণপুরের এ ঘটনায় রাজধানীর মিরপুর থানায় ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করে পুলিশ।
