খুলনায় পাটের গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি স্টেশনের ১৩টি ইউনিট একযোগে পাঁচ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। গোডাউনে রক্ষিত প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মণ কাঁচাপাট ভষ্মিভূতসহ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্তত সোয়া একশ কোটি টাকা বলে দাবি করেছে মিল কর্তৃপক্ষ। খুলনার ফুলতলায় আইয়ান জুট মিলস লিমিটেডের গোডাউনে বুধবার সকালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকরা জানান, মিলের ৩নং সড়কের দক্ষিণ পাশের মহিলা সেড থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তে আগুন মিলের কাঁচাপাটের ২ ও ৩নং গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের নূরনগর, দৌলতপুর, খালিশপুর, খানজাহান আলী, ডুমুরিয়া ও যশোরের নওয়াপাড়ার সাতটি স্টেশনের ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের খুলনা ডিভিশনালের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে সকাল সোয়া ৭টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো পর্যায়ক্রমে তা নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। পাঁচ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও একদিন সময় লাগবে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
আইয়ান জুট মিলসের বিমাকারী প্রতিষ্ঠান ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্সের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) মো. আকবর হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।
মিলের ব্যবস্থাপক (রফতানি) মোরশেদ আহম্মেদ বলেন, ২নং গোডাউনে সাড়ে তিন লাখ মণ এবং ৩নং গোডাউনে প্রায় দুই লাখ মণ কাঁচাপাট মজুদ ছিল। যার গড় মূল্য ১০৯ কোটি টাকা। এছাড়াও অবকাঠামো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সোয়া ১০০ কোটি টাকা।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাজিব আহম্মেদ ভুঁইয়া বলেন, এ দুর্ঘটনার কারণে চুক্তিবদ্ধ ৮/১০টি দেশে পাটজাত পণ্য সময় মত রফতানি ব্যাহত হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে পাট আমদানিকারক দেশগুলোতে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ছয়মাস সময় লাগতে পারে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
