চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুখ্যাত মাদক সম্রাজ্ঞী মিনি আদালতে আত্মসপর্মন করে কদিন আগে। এ ঘটনার পর তার পরিবারের বাকি মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন করেছে।
প্রায় দু‘মাস আগে ওসি হিসেবে আবু জিহাদ খান আলমডাঙ্গা থানায় যোগদান করেন। তারপর থেকে তিনি মাদক উচ্ছেদে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেন। মাদক ব্যবসা বন্ধে ডেডলাইন ঘোষণা দেন ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। উপজেলাব্যাপী মাদক ছড়িয়ে দেয়ার প্রধান হোতা মিনি ও তার পরিবারের মোট ১২ সদস্য পুলিশের হাতে আটক অথবা আত্মসমর্পনে বাধ্য করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে বাকি সাত মাদক ব্যবসায়ী থানায় এসে আত্মসমর্পন করে। এর আগে পাঁচজনকে মাদকসহ আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
আত্মসমর্পনকারীরা হল আলমডাঙ্গার কুখ্যাত মাদক সম্রাজ্ঞী মিনির স্বামী শেখ আলাউদ্দিন, দুই জামাই রুবেল ও ওল্টু, তিন মেয়ে মায়া, মুক্তা ও মুন্নী খাতুন এবং মিনির মা ফাহিমা খাতুন।
মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াসি অভিযানে পেশাদার এই মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের আঁখড়া ছেড়ে দু‘মাসব্যাপী আত্মগোপনে চলে গিয়েছিল। গতকাল দুপুরে থানায় এসে তারা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন করে।
থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ খান ইত্তেফাককে জানান, আলমডাঙ্গার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মিনির পরিবারের মাদক আঁখড়া তাসের ঘরের মত তছনছ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া শহরে এবং গ্রাম পর্যায়ের অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে মাদক মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এখনও যারা গোপনে মাদক ব্যবসা বা সেবন করার অপচেষ্টা করছে তাদেরকে কড়া মাসুল দিতে হবে। তিনি জানান, মাদক প্রশ্নে কোন ছাড় নাই।
এদিকে, আলমডাঙ্গার মাদক সাম্রাজ্যের অত্যন্ত প্রতাপশালী মিনি ও তার পরিবারের সব মাদক ব্যবসায়ীরা একযোগে আত্মসমর্পনের ঘটনায় শহরবাসীকে আনন্দোল্লাস করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের বখে যাওয়া সন্তানেরা মাদকাসক্ত হয়ে পরিবারকে নরকে পরিনত করেছিল তাদের অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ ছিল চোখে পড়ার মত। তবে এখনও আনাচে-কানাচে যারা অতি গোপনে নেশা জাতিয় দ্রব্য বিক্রি অব্যহত রেখেছে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন মাদকাসক্ত সন্তানের পরিবারের অভিভাবকেরা।
ইত্তেফাক/নূহু
