পশ্চিমের জেলাগুলোর আবাদী জমি থেকে ব্যাপকহারে টপ সয়েল বিক্রি হচ্ছে। এতে এসব জমি উর্বরা শক্তি হারাচ্ছে। এক শ্রেণির মাটির কারবারি কম দামে টপ সয়েল কিনে ইট ভাটায় বিক্রি করছে। জেলাগুলো হলো মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এসব জেলায় কয়েকশ’ ইট ভাটা রয়েছে। প্রতি বছর ভাটার সংখ্যা বাড়ছে। সে সাথে টপ সয়েল বিক্রির পরিমাণও বাড়ছে। জানা যায়, ভাটা মালিকেরা প্রথমে নিজস্ব জমি থেকে মাটি কেটে ইট তৈরি করে। এরপর নিজের ভাটা এলাকার মাটি ফুরিয়ে গেলে অন্যের জমি থেকে টপ সয়েল কিনে ইট তৈরি করে। সাধারণত অভাবি কৃষকগণ টপ সয়েল বিক্রি করে। ঝিনাইদহের শৈলকুপার একজন ভাটা মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রত্যেক এলাকায় টপ সয়েল কেনাবেচার কারবারি তৈরি হয়েছে। তারা কৃষকের জমি থেকে এক দেড় টাকা দরে প্রতি বর্গফুট মাটি কিনে। এ মাটি শ্রমিক দিয়ে কেটে ট্রাক বা ট্রাক্টরের ট্রলি বোঝাই করে এনে ইটভাটায় বিক্রি করছে। তারা ভাটা মালিকদের কাছে প্রতি বর্গফুট ৫/৬ টাকা দরে বিক্রি করছে। জমি থেকে এক ফুট গভীর করে টপ সয়েল কেটে নিচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক চ্লি দাস কু্লু বলেন, এ অঞ্চলে উদ্বেগজনকভাবে জমির টপ সয়েল বিক্রি হচ্ছে। টপ সয়েলের ৬ ইঞ্চির ভেতরে মাটিতে পুষ্টি থাকে। ফসল এ পুষ্টি থেকে খাবার পায় এবং বেড়ে উঠে। আর টপ সয়েল কেটে নেওয়ার পর জমি উর্বরতা শক্তি হারাচ্ছে বলে তিনি আরো জানান। কৃষকদের টপ সয়েল বিক্রি করতে নিষেধ করা হচ্ছে। কেউ কর্ণপাত করছে না।
ইত্তেফাক/নূহু
