চারণ সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন স্মরণে...

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৩:৫৭
 
মফস্বল সাংবাদিকতা জগতের পথিকৃৎ চারণ সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিনের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শুক্রবার। ১৯৯৫ সালের ২৯ ডিসেম্বরে তিনি মারা যান। সাংবাদিক আব্দুল মজিদ-মোনাজাত উদ্দীন স্মৃতি সংসদ আজ শুক্রবার রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ মাহফিল, কোরআনখানি, শীতবস্ত্র বিতরণ, মোনাজাত উদ্দিন আনন্দলোক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে খাতা-কলম প্রদান সহ বিস্তারিত কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।
 
১৯৪৫ সালের ১৮ জানুয়ারি উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নে জন্ম গ্রহণ করেন মোনাজাত উদ্দিন। উত্তর জনপদের অত্যন্ত সৎ, নিষ্ঠাবান, সাহসী শ্রমনিষ্ঠ এবং নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন আজ আমাদের মাঝে নেই। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আজকের এ দিনে প্রমত্ততা যমুনা নদীতে বাহাদুরাবাদগামী বাংলাদেশ রেলওয়ের শেরেবাংলা নামক ফেরিতে কালসোনার ড্রেজিং পয়েন্টে ছবি তুলতে গিয়ে আকস্মিকভাবে পড়ে পানিতে ডুবে মারা যান। মোনাজাত উদ্দিন সাংবাদিকতা জগতের একটি সুপরিচিতি নাম। একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। ৩০ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি নিজের সুখ-দুখের কথা ভুলে গিয়ে মানুষের কথা লিখেছেন। গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটে চলেছেন সংবাদ সংগ্রহের কাজে। গ্রামীণ মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, চাওয়া-পাওয়া, অভাব-অনটন সবকিছুই তুলে নিয়ে এসেছেন। নিষ্ঠার সাথে ছেপেছেন সংবাদপত্রে।
 
খবরের পেছনে থাকে আরো খবর। থাকে জানা-অজানা নানা কথা ও কাহিনী। তিনি চষে বেড়িয়েছেন মাঠের পর মাঠ, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। গেছেন শেকড়ের সন্ধানে। সৃষ্টি করেছেন নতুন কিছু। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনজীবনের সমস্যা সম্ভাবনা ও মানবিক অনুভবের নানাদিক তিনি তার অণুবীক্ষণ পর্যালোচনার মাধ্যমে শক্তিশালী লেখনীতে ধারণ করেছেন। প্রতিটি প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে গ্রাম বাংলার অকৃত্রিম চিত্র। পাঠককে সংবাদ খাওয়াতে হবে এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে তাকে নিরন্তর ছুটতে হয়েছে। ১৯৬৬ সালে সর্বপ্রথম দৈনিক আজাদ পত্রিকায় রংপুরের নিজস্ব সংবাদদাতা হিসেবে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন। এরপর নিজের প্রকাশনায় দৈনিক রংপুর প্রকাশিত হয়। তাছাড়াও কাজ করেন পূর্বদেশ পত্রিকাতে। ১৯৭৬ সালে যোগদেন দৈনিক সংবাদে। সেখানে তিনি টানা ২০ বছর কাজ করেন। এ সময়েই ছড়িয়ে পড়ে মোনাজাত উদ্দিনের নাম। ১৯৯৫ সালের ২৪ এপ্রিল সংবাদ ছেড়ে তিনি দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় যোগদান করে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কাজ করেন।
 
মোনাজাত উদ্দিন কেবল একজন সাংবাদিকই ছিলেন না, সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতেই তার দখল ছিল। এ সময় তিনি রচনা করেন একাধিক ছোট গল্প, নাটক, ছড়া ও প্রবন্ধ। তার উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো পায়রাবন্দের শিকড় সংবাদ, সংবাদ নেপথ্যে, পথ থেকে পথে, কানসোনার মুখ, নিজস্ব রিপোর্ট, ছোট ছোট গল্প, চিলমারীর একযুগ, শাহাআলম ও মজিবরের কাহিনী, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, কাগজের মানুষেরা ও নয়-নারী। তিনি জীবদ্দশায় এবং মরণোত্তর কিছু সম্মাননা ও পুরস্কার লাভ করেন এবং গুণীজন হিসেবে সংবর্ধিত হন। আজ মোনাজাত উদ্দিন নেই। কিন্তু রয়ে গেছে কিছু স্মৃতি। তিনি আর আসবেন না আমাদের মাঝে। গল্প আর আড্ডা জমবে না। সবকিছুই যেন বেরস। স্মৃতির অ্যালবামে যখনেই মনে পড়ে তার কথা তখনেই ভেসে ওঠে অজানা কিছু পঙতি।
                                         'লেখার মাঝে বেঁচে আছে যারা, শুধু আছে তার ছবি
                                         নিত্য অভাব সাথে চলে হায়, নিশিতে জ্বলে না বাতি
                                         তবু কেন ওরা লেখে যায়, লেখে যায় গাদি গাদি।'
 
ইত্তেফাক/জামান